মোঃ সৈয়দ মিয়া ( চট্টগ্রাম ব্যুরো )
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়।
বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরামর্শদাতা এবং জীবনের কঠিন পথচলার অন্যতম পথপ্রদর্শক। সন্তানের শিক্ষা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের নানা সংকটে একজন বাবাই হয়ে ওঠেন সন্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯১০ সালে সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তুলেছিলেন উইলিয়াম স্মার্ট। বাবার সেই অসাধারণ ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি দিতেই এ দিবসের প্রচলন ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবস জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার দিবসটি পালিত হতে শুরু করে।
বাংলাদেশে বাবা দিবস কোনো সরকারি ছুটির দিন বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক দিবস না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এদিন অনেকেই বাবাকে উপহার দেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটান কিংবা বাবার সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যান। কেউ কেউ ছোট পারিবারিক আয়োজন, কেক কাটা বা বিশেষ শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এদিন বাবাকে ঘিরে স্মৃতিচারণ, পুরোনো ছবি শেয়ার এবং আবেগঘন বার্তা প্রকাশের প্রবণতা দেখা যায়। অনেকের মতে, ব্যস্ত আধুনিক জীবনে পরিবার ও সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এমন একটি দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাবা দিবস তাই শুধু একটি দিবস নয়; এটি একজন বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর এক অনন্য উপলক্ষ।