মোঃ কাইয়ুম হাসান,স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের তেগাছিয়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতের এই আকস্মিক আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ৩টি পরিবারের বসতঘর, রান্নাঘর, আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র ও মজুত রাখা খাদ্যসামগ্রীসহ সর্বস্ব। মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পরিবারগুলো এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে তেগাছিয়া গ্রামের মানুষ তীব্র উত্তাপ অনুভব করেন। ঘুম ভেঙে বাইরে আসতেই একটি বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার শুরু করেন প্রতিবেশীরা। চোখের পলকেই আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। দমকল বাহিনীর কর্মীদের দীর্ঘ ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। স্থানীয়দের মতে, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগুনের ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক গুণ ছাড়িয়ে যেত।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটল যে ঘর থেকে কোনো জিনিসপত্র বের করার সুযোগই পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিস সময়মতো না এলে পুরো পাড়া শেষ হয়ে যেত।অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ ধারণা করছেন, শোবার ঘরের মশার কয়েল থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আবার কারও মতে, রান্নাঘরের অবশিষ্ট আগুন থেকে এই বিপর্যয় ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সঠিক তদন্তের পরই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত উৎস জানা সম্ভব হবে।
এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা খয়রুল, মজিবর ও আবুল এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু হারিয়ে বর্তমানে তারা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের কান্না ও আহাজারিতে তেগাছিয়া গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সাথে নিঃস্ব পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ও বেসরকারি অনুদানের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়া এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রশাসন কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।