মোঃ কামাল হোসেন।, স্টাফ রিপোর্ট (বাঘা রাজশাহী) রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় যুথি বেগম (২৮) নামে এক নারীকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের খোর্দ্দবাউসা গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। নিহত যুথি বেগম খোর্দ্দবাউসা গ্রামের জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। নিহতের বড় ছেলে জিহাদ হোসেনের বয়স আট বছর এবং ছোট ছেলে জায়ান হোসেনের বয়স দেড় বছর। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মাঠে কাজ শেষে বাড়িতে ফেরেন জহুরুল ইসলাম। এ সময় তাঁদের দেড় বছর বয়সী সন্তান জায়ান হোসেন কান্নাকাটি করছিল। শিশুটিকে থামানোকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে জহুরুল ধারালো হাসুয়া দিয়ে স্ত্রী যুথিকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) এক কর্মী তাঁদের বাড়িতে এসে ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিভিন্ন কথা বলে যান। এ বিষয়সহ পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। জহুরুল ইসলামের ভাই রুহুল হোসেন বলেন, তাঁদের সংসারে আর্থিক অনটন ছিল। কয়েকটি এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া ছিল বলে তিনি শুনেছেন। মাঝেমধ্যে এনজিওর লোকজন বাড়িতে এসে ঋণের বিষয়ে কথা বলতেন। এছাড়্ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোই ছিল বলে জানান তিনি। রুহুল হোসেন আরও বলেন, তাঁর ভাই এভাবে স্ত্রীকে হত্যা করবেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।