চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ১৫ লাখ টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (ভোররাত) উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের পশ্চিম মনকিচর ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহির পুকুরপাড় এলাকায় হাজী আহমদ আলীর নতুন বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো- মুহাম্মদ জাফর, মুহাম্মদ পারেসুল আলম, মুহাম্মদ অছিউর রহমান, মুহাম্মদ তৌহিদ ও মোজাফফর আহমদের পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে মোজাফফর আহমদের ঘরে প্রথম আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সে সময় ঘরটিতে কেউ অবস্থান করছিলেন না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের উৎপত্তি হয়েছে। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের আরও চারটি বসতঘরে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখায় ছেয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালালেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে পাঁচটি পরিবারের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অনেক সামগ্রী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ১৫ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিযানুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শোক ও হতাশা নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।