লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি:
নাটোরের বড়াইগ্রামে সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মিজানুর রহমান (৩৮)।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে মো. রেজাউল করিম ওরফে মিন্টু (৪৫), মো. মঞ্জুরুল হক সুজন (৩৫) ও মো. রেজাউল করিম (৩৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে রেজাউল করিম ওরফে মিন্টু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করেন। তার বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। ওই মামলা নাটোর সদর থানায় হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলাটির বর্তমান তদন্ত ও বিচারিক অবস্থা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রেজাউল ইসলাম নামের আরেক ব্যক্তিও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় নিজেকে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত করেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে মো. মঞ্জুরুল হক সুজনও নিজেকে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মী/ক্যাডার হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন—এমন দাবি করেছেন অভিযোগকারী পক্ষ। তবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় পদ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে অভিযোগকারী বড়াইগ্রাম থানাধীন খাকসা গ্রামের ভূগোল মোড় এলাকায় জনৈক মো. বিজয় সরকারের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দুটি মোটরসাইকেলে সেখানে গিয়ে তার কাছে দাঁড়ান। পরে তাকে দোকান থেকে আনুমানিক ২০০ গজ পশ্চিমে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, সেখানে রেজাউল করিম ওরফে মিন্টু নিজেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। অপর ব্যক্তিরা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর অভিযোগকারীকে মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার শরীর তল্লাশি করা হয় এবং তার কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য রয়েছে বলে ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অভিযোগকারীর কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে আটক করে পুলিশের মাধ্যমে মাদক মামলায় চালান দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে অভিযোগকারীর ছবি তোলেন এবং তাকে মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে তার মান-সম্মান ক্ষুণ্ন করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, তিনি অভিযুক্তদের এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে অভিযোগপত্রে মো. মাহিদুল ইসলাম মাফিজ (৫০) ও মো. আকরাম (২৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
বাদীর বক্তব্য
অভিযোগকারী মো. মিজানুর রহমান সংবাদকর্মীদের বলেন, “ঘটনা শতভাগ সত্য। আমি প্রশাসনের কাছে আইনগত বিচার আশা করি। বিবাদীরা অনেক ক্ষমতাবান। তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের কর্মকর্তার পরিচয় দিয়েছে। অভিযোগ করার পর আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি বা হামলা করা হতে পারে কি না, তা নিয়েও আমি আশঙ্কায় আছি।”
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম সংবাদকর্মীদের বলেন, “অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদেরকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি , ফলে অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্তদের কথিত পরিচয়, পূর্বের মামলার বিষয় : রেজাউল করিম মিন্টুর নামে ইতিপূর্বে নাটোর সদর থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের হয়েছিল বর্তমানে এসে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেড়ায় এর পূর্বে সে আওয়ামী লীগের কর্মী ছিল এবং রাজনৈতিক পরিচয়সহ সবকিছু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।