মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা পৌরসভার কলিঙ্গা বিল এলাকায় পোল্ট্রি ফার্মের বকেয়া মুরগি বিক্রির টাকা চাওয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বর্বর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় দুই নারী মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন এবং ঘর থেকে নগদ ৩ লক্ষাধিক টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মার্জিনা আক্তার (২৮) বাদী হয়ে গত ১ নভেম্বর ২০২৬ইং তারিখে লামা থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া আজ (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে প্রশাসনের কাছে পরিবারটির নিরাপত্তা ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযুক্ত ও মামলার বিবাদীগণ হলেন— মো: করিম (৩৫), মাইনউদ্দিন (৫০), মো: কাদের (১৯), মো: গনি (২০), রাবেয়া প্রকাশ- কালী (৩৭), মো: ছাল্লান (১৯), রূপজান (৫২) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন। তারা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ সম্মেলনের বিবরণ থেকে জানা যায়, লামা পৌরসভার কলিঙ্গা বিল এলাকার মার্জিনা আক্তার স্থানীয় ব্যবসায়ী সিদ্দিকুল আলম ডনের সাথে যৌথভাবে একটি পোল্ট্রি মুরগির ফার্ম পরিচালনা করে আসছিলেন। উক্ত ফার্মের মুরগি বাকিতে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে টাকা পরিশোধ করছিলেন না বিবাদী মো: করিম।
গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ইং তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে কলিঙ্গা বিল এলাকার সাইদুলের দোকানের সামনে মার্জিনা আক্তার বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বললে বিবাদী করিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। মার্জিনার স্বামী এর প্রতিবাদ করলে করিম তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় জুতোপেটা ও মারধর করে মারাত্মকভাবে জখম করে।
এই ঘটনার জের ধরে একই দিন (৩১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বিবাদী করিমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠি ও লোহার রড নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মার্জিনা আক্তারের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। মার্জিনার স্বামী প্রাণভয়ে পালিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা ঘরে অনধিকার প্রবেশ করে ঘরে থাকা মার্জিনার বড় বোন মোমেনা বেগম (৩৫) ও ছোট বোন রোকসানা আক্তারকে (২৩) এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও লাথি মেরে মারাত্মকভাবে জখম করে। একপর্যায়ে নারীদের মাথার চুল ও শরীরের কাপড় টেনে ধরে শ্লীলতাহানি ঘটানো হয় এবং পুরো ঘর ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীরা আলমারি ও ঘর তল্লাশি করে মুরগি বিক্রির নগদ ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, বোন মোমেনা বেগমের জমানো ৭০ হাজার টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রির ১৮ হাজার টাকাসহ সর্বমোট ৩ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা আহত নারীদের মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে গভীর রাতে (আনুমানিক ৩টার দিকে) বিবাদীগণ আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িটি অবরুদ্ধ করে চারপাশ থেকে আঘাত ও হুমকি প্রদান করে।
পরে আহত দুই বোনকে উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মার্জিনা আক্তার বলেন, "এই ঘটনার পর থেকে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর বিবাদীগণ আমাদের প্রতিনিয়ত অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে, অন্যথায় হত্যার হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।"
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের উচ্চমহলের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।