আরিফ ইসলাম আলাল:ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজ মোড় এলাকাভিত্তিক নৈশকালীন মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি সেখানে পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে মাদক সেবনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করার পর চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকা জুড়ে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজ মোড় থেকে প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে রাস্তার পাশে মোঃ মোতাহার হোসেন সোহেল (পিতা: মশিয়ার রহমান)-এর একটি নির্মাণাধীন নতুন বাড়ি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বাড়িটির চারপাশ টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখে প্রতিনিয়ত বাইরে থেকে অপরিচিত লোকজনকে এনে ভেতরে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে নিয়মিত মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজ চালানো হতো। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আশপাশের বাসিন্দারা। গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকার সময় নির্মাণাধীন ওই বাড়িতে সন্দেহভাজন লোকজনের উপস্থিতি টের পান স্থানীয়রা। বিষয়টি তাৎক্ষণিক এলাকার যুব সমাজকে জানানো হলে তারা একজোট হয়ে ওই টিনের বেড়াবেষ্টিত বাড়িতে প্রবেশ করেন।
এ সময় অন্ধকারের মধ্যে চারজন ব্যক্তিকে সরাসরি মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে দেখতে পান তারা। যুবকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। ঘটনাস্থলেই ক্ষুব্ধ যুবকরা অভিযুক্তদের আটকানোর চেষ্টা করলে জানা যায়, মাদক সেবনকারীদের মধ্যে একজন ডিমলা থানার কর্মরত কনস্টেবল মোঃ রমজান আলী (কনস্টেবল নম্বর: ৪২০)। প্রত্যক্ষদর্শী যুবকদের দাবি, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উপস্থিত যুব সমাজকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানামুখী হুমকিসহ দমানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "এই জায়গায় শুধু মাদক সেবনই নয়, মাঝে মাঝে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে মেয়েদেরও নিয়ে আসা হয়। কলেজ মোড়ের মতো একটি শান্ত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় আগে কখনো এমন পরিবেশ ছিল না।
এসব অপকর্মের কারণে এলাকার সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্ম পথভ্রষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয় অধিবাসীরা প্রশ্ন তুলে বলেন, "যাদের ওপর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা ও যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার দায়িত্ব, সেই পুলিশ সদস্য নিজেই যদি মাদক সেবনে লিপ্ত থাকেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? যুবসমাজকে রক্ষা করবে কে? এলাকাবাসীর জোর দাবি, ডিমলা থানার বিতর্কিত ওই পুলিশ কনস্টেবলসহ মাদক চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে শান্ত ডিমলা এলাকায় মাদকের এই অবৈধ সাম্রাজ্য চিরতরে বন্ধ হয়।