লিটন ত্রিপুরা, রুমা প্রতিনিধি: পাহাড়, ঝরনা আর মেঘের টানে বছরজুড়ে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা বান্দরবানের রুমা উপজেলা এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। প্রচণ্ড দাবদাহ, জ্বালানি সংকট এবং দেশের চলমান অস্থির পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এখানকার পর্যটন খাতে। পর্যটক আগমন সীমিত হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি, চরম বিপাকে পড়েছেন ট্যুরিস্ট গাইড, পরিবহন চালক ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা। বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে রুমা উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। পর্যটক না থাকায় পর্যটক গাইডরা অলস সময় পার করছেন। পর্যটকবাহী জিপ (চাঁদের গাড়ি) ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরাও পড়েছেন সংকটে। অনেক রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল ক্রেতাশূন্য থাকায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক ধসের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় একজন ট্যুরিস্ট গাইড জানান, "অতিরিক্ত গরম এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটকরা এখন ভ্রমণে আসতে অনিহা বেড়েছেে। এছাড়া তেলের সংকটের কারণে যাতায়াতেও কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। পর্যটক না আসায় আমাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের দীর্ঘস্থায়ী তাপদাহ পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করেছে। এছাড়া পাহাড়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভালো হলেও কিছুটা রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে পর্যটকদের মনে এক ধরনের সংশয় কাজ করছে বলে মনে করেন অনেকেই। জ্বালানি তেলের অনিয়মিত সরবরাহ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের খরচও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা পর্যটক হ্রাসের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে বর্তমান পরিস্থিতি হতাশাজনক হলেও সামনের ঈদুল আজহাকে (কোরবানি ঈদ) ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন রুমা উপজেলার ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা আবার পাহাড়ের সৌন্দর্য্য ফিরে পাবে।