মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: সারাদেশে যখন একের পর এক শিশু নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচারহীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে, ঠিক তখনই পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচিতে পাঁচ বছরের এক ত্রিপুরা শিশুকে ধর্ষণের ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে চরম ক্ষোভের মুখেও আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পাহাড়ের মানুষ। এদিকে ঘটনার পর বিচারের দাবিতে সমবেত ক্ষুব্ধ জনতার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্র তাক করার অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, থানচি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ওই ৫ বছরের পাহাড়ি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জুম্ম জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়লেও তারা কোনো সহিংসতায় জড়াননি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু 'রামিসা' ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে যখন চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সেখানে থানচির মানুষ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তারা অভিযুক্তকে জীবিত আটক করে অক্ষত অবস্থায় প্রশাসনের হাতে তুলে দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও আসামিকে পিটিয়ে না মেরে প্রশাসনের কাছে জীবিত হস্তান্তর করা একমাত্র পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় মানুষের পক্ষেই সম্ভব।
জনতার দিকে অস্ত্র তাক করার অভিযোগ: ক্ষোভ ঘটনার পর অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দিকে অস্ত্র তাক করার অভিযোগ ওঠে।
বিক্ষুব্ধ জনতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জনগণকে রক্ষা করার জন্যই প্রশাসনের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, তাদের দিকে তাক করার জন্য নয়। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জনগণের ক্ষোভ থাকা এবং বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। সেখানে শান্তিপূর্ণ ও ক্ষুব্ধ জনতার ওপর অস্ত্র প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় স্থানীয়দের মনে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরনের অনাস্থা কাজ করছে। থানচির এই ঘটনার পর পাহাড়ের সচেতন মহল এবং অধিকারকর্মীরা "অতীতের বিচারহীনতার সংস্কৃতি" থেকে পাহাড়কে মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।"পাহাড়ে কোনো ঘটনা ঘটলে এক অদ্ভুত কারণে বছরের পর বছর তদন্ত ঝুলে থাকে, বিচার হয় না। আমরা চাই প্রশাসন এবার 'কাজের কাজ' করে দেখাক। দ্রুততম সময়ে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করে পাহাড়ে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা হোক।" থানচি থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ঘটনার দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচার এখন সময়ের দাবি।