মোঃ জমজম আহমেদ, ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ৪ বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে (২৭) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২২ জুন) শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মোঃ ছালেহুজ্জামান এ চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের বাদেডিহী গ্রামের রফি উদ্দীনের ছেলে। রায়ে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অবুঝ শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় লম্পট আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে শুরু করলে, আসামি নিজের পরনের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই ঘাতক শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পার্শ্ববর্তী আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে। ঘটনার পরপরই সে পালিয়ে যায়। তবে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন গত ১৬ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মাত্র ৫ কর্ম দিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত এ ঐতিহাসিক রায় প্রদান করলেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ আকিদুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।