আবু ওবায়দুল হক, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম চিলমারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে- প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রেশন ইন্টারপ্রেনরশিপ এন্ড রিলিজিয়ান্স ইন বাংলাদেশ ( পার্টনার) প্রকল্পের আয়তায় পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপপরিচালক, ডিএই, কুড়িগ্রাম।
আজ বুধবার ( ২২ এপ্রিল) সকাল ৯ টায় চিলমারী উপজেলা অডিটরিয়ামে এইও-২ ও সংশ্লিষ্ট ব্লকের এসএএও বৃন্দ রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে কংগ্রেস পার্টনার এর কার্যক্রম শুরু হয়।
পার্টনার কংগ্রেস এ সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পার্টনার প্রতিনিধি কৃষিবিদ অশোক কুমার রায়, সিনিয়র মনিটরিং অফিসার, রংপুর অঞ্চল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আব্দুল বারী সরকার, সদস্য সচিব আবু হানিফা, উপজেলা জামাত ইসলামের আমির নুরে আলম মূকুল। সাংবাদিক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য বদরুদ্দোজা বুলু, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ, সরকারী কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি ও কৃষক - কৃষাণীরা ।
আগত পিএফএস কৃষক কৃষাণি দের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসার কনক চন্দ্র রায়ের স্বাগত কথা, পার্টনার কংগ্রেসের পটভূমি, উদ্দেশ্য, কার্যক্রম ও পিএফএস এর ফার্মার সার্ভিস সেন্টারে রূপান্তর ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন।
এইও-২ অতিরিক্ত কৃষি অফিসার পিএফএস এবং ফার্মার সার্ভিস সেন্টারের সঞ্চয়, হিসাব সংরক্ষণ ও ব্যাংক হিসাব খুলতে সহায়তা করেন।
পার্টনার প্রতিনিধি - উপজেলা সমবায় অফিসার শাহাদাত হোসেন ফার্মার সার্ভিস সেন্টারের আলোচনা ও নথি ব্যবস্থাপনার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করেন ।
চিলমারী উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে চিলমারী উপজেলার উপযোগী খাদ্য শষ্য ফলনের জন্য উন্নত মানের বীজ প্রদর্শন করা হয়।
আগত চরাঞ্চলের কৃষক কৃষাণিদের মুক্ত আলোচনা করা হয়।
চরের কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান , চরাঞ্চলে ৭২ প্রকার শস্যের উৎপাদন হয়। ধান,ভূট্টা, আলু, পিঁয়াজ, সরিষা , কালাই, তিল , তিশি প্রভৃতি। তবে ন্যায্য মূল্য পাই না। যেমন আলু ভালো ফলন হয়েছে বিক্রি মূল্য ১৬ টাকা কেজি,অথচ উৎপাদন খরচ ২৬ টাকা। উন্নত মানের সরিষা বীজের জন্য উৎপাদন কম হয় । একর প্রতি ১০০ থেকে ১২০ মন সরিষা উৎপাদন হয় তা খুবই কম । প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ ও উৎপাদন করা হলে ফলন আরো বৃদ্ধি পাবে।
কৃষাণি রাফিয়া আক্তার জানান, আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শাকসবজি সহ অন্যান্য ফলন বৃদ্ধি করতেছি।
বিএনপির আহ্বায়ক জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিচিত ছিলেন কৃষকের রাখাল হিসেবে । কৃষি কাজের উপর, খাদ্য শস্য ফলনের উপর মনোযোগ দিতে হবে। আমরা কৃষকের সন্তান । কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ।
রংপুর অঞ্চল মনিটরিং অফিসার অশোক কুমার বলেন, পাটনার কনগ্রেস হলো একটি সভা । তিনি আরও জানান ১% সূদে বিশ্ব ব্যাংকের টাকা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে হাত দিয়েছি। আন্তর্জাতিক মানের সবজি ও ফল উৎপাদনের উপর নজর দিতে হবে যা সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। ১ নং টার্গেট উত্তম কৃষি চর্চার (গ্যাপ) মাধ্যমে আলু উৎপাদন করতে হবে। চিলমারী উপজেলায় ধানের ফলনের জন্য ধান ১০১, ১০৮ জাত, বোরো জাত ১০২ ।
কৃষিবিদ ডিডি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কুড়িগ্রাম একটি কৃষি নির্ভর জেলা, ১৬ নদী তা সত্ত্বেও উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনে কুড়িগ্রাম জেলা । উদ্বৃত্ত সাড়ে ৫ লক্ষ মেট্রিক খাদ্য শস্য। চাহিদা অনুযায়ী ফসল উৎপাদন করা। শিল্প কারখানা তৈরি না হওয়ায় উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য কাজে লাগাতে পারছি না। পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কৃষক কৃষাণিরা।
ইট ভাটা সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত করছে ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে যায় ফসলের উর্বরতা হ্রাস পায়। ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, কৃষি এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশে ফসলের উৎপাদন অনেক এগিয়ে, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত মানের বীজ, মানুষেরা কৃষি কাজে উৎসাহী হচ্ছে, কৃষকদের আরও সচেতন হতে হবে এন্ড্রয়েড মোবাইল মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ফসলের উৎপাদন ও বিপণন কাজে লাগাতে হবে।
পার্টনার কংগ্রেস সঞ্চালন করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সারোয়ার।