মোঃ শরিফ হোসেন, ভোলা জেলা, প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সাতজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া। একজন রাজনৈতিক নেতার এমন 'হয়রানিমূলক' পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
সূত্রমতে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পরিচিতি সভায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ‘হলুদ সাংবাদিক’ ও ‘চাঁদাবাজ’ বলে আপত্তিকর বক্তব্য দেন মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া। তার এই মানহানিকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং ব্যাখ্যা চেয়ে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এই বিএনপি নেতা।
গত ২৭ এপ্রিল বরিশাল সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন আলমগীর মালতিয়া। এতে ৭ জন সাংবাদিক এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মনজুর হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক শারমিন জাহান বিষয়টি আমলে নিয়ে চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আসামিভুক্ত সাংবাদিকরা হলেন:
০১। জুলফিকার মাহামুদ নিয়াজ (সভাপতি, চরফ্যাশন প্রেসক্লাব; প্রতিনিধি, বাংলাদেশের আলো)
০২। কামাল গোলদার (সাধারণ সম্পাদক, চরফ্যাশন প্রেসক্লাব; প্রতিনিধি, ইনকিলাব)
০৩। আবু সিদ্দিক (নির্বাহী সদস্য; প্রতিনিধি, আগামীর সময়)
০৪। আমিনুল ইসলাম (সদস্য; প্রতিনিধি, যায়যায়দিন)
০৫। জামাল মোল্লা (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; প্রতিনিধি, দৈনিক সংবাদ)
০৬। সাইফুল ইসলাম মুকুল (প্রচার সম্পাদক; প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা)
০৭। নোমান সিকদার (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; প্রতিনিধি, দৈনিক সমকাল)
সাংবাদিক মহলের প্রতিবাদ ও হুঁশিয়ারি
মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল মিয়াজীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বলেন, ৫ আগস্টের পর ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ ওঠে। এসব অপরাধ আড়াল করতে এবং সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই তিনি এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলাটি করেছেন।
ভোলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, নাসির উদ্দিন লিটন এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার টুঁটি চেপে ধরার একটি অপচেষ্টা। নিজের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকদের ওপর আইনি হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।"
প্রতিবাদ সভা থেকে সাংবাদিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে ভোলার সকল গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম অস্থিরতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।