কায়সার আশ্রাফী, চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি
মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে সমাজের সকল স্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম মাদ্রাসা স্কলারশিপ সংগঠনের উদ্যোগে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা, বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডস্থ এস.এন. কনভেনশন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মো. আবু জাফর সালেহ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর পরিচালক এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিউল আলম।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বন্দর থানার শিক্ষা সমন্বয়ক মোহাম্মদ হাকিম চৌধুরী। তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান তাদের ভবিষ্যৎ সাফল্যের পথকে আরও সুদৃঢ় করে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মোহাম্মদ হোসেন, বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন সোসাইটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এম. নজরুল ইসলাম খান, বাকের আলী ফকিরের টেক দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এম. মোর্শেদ এম এবং বাগেরহাট জেলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহিদুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মো. লোকমান হোসেন, মাওলানা মো. হাসানসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন মাদ্রাসার পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক, অভিভাবক ও সুধীজন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, নৈতিক মূল্যবোধ ও জ্ঞানচর্চার আগ্রহ সৃষ্টিতে বৃত্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মাদ্রাসা স্কলারশিপ সংগঠন প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে নির্ধারিত সিলেবাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করে থাকে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিতদের বৃত্তি, সনদপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ, ক্রেস্ট, সনদপত্র এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। পরে তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনার মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বক্তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী বছরগুলোতেও আরও বৃহৎ পরিসরে বৃত্তি পরীক্ষা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।