আঃ খালেক,গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রতিনিধি(সিলেট):সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ প্রকৃতিতে শুরু হয়েছে এক অন্যরকম রূপায়ণ। সরজমিনে দেখা যায় আজ শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) হিমেল হাওয়া আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গাছপালা ও জলাশয়গুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।প্রতিবছর শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে সাইবেরিয়া ও হিমালয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীতল দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সিলেটের গোয়াইনঘাটেও ছুটে আসে এই পরিযায়ী পাখিরা। উপজেলার বিভিন্ন হাওর-বাঁওর, জলাশয় এবং গ্রামীণ জনপদের গাছগুলোর ডালে ডালে এখন এই পাখিদের দলবেঁধে বসে থাকার দৃশ্য চোখে পড়ার মতো। সকালের মিষ্টি রোদে গাছের ডালে বসা এবং খোলা আকাশে তাদের ডানা মেলে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদের মন কেড়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, শীতের ছোঁয়া লাগতেই গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন ঝিল, বিল ও গাছগাছালিতে দেশি প্রজাতির পাখির পাশাপাশি নানা রঙের অতিথি পাখির আগমন ঘটে। বিশেষ করে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পাখির কিচিরমিচির শব্দে পুরো এলাকার পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা শীতের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এদিকে, এই অতিথি পাখিদের অবাধ বিচরণ দেখতে স্থানীয় উৎসাহী মানুষ ও পর্যটকরা ভিড় করছেন বিভিন্ন পয়েন্টে। তবে পরিবেশবাদীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, একশ্রেণির অসাধু চক্র এ সময় পাখি শিকারে লিপ্ত হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষকেও পাখি সুরক্ষায় সচেতন হতে হবে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ও পরিযায়ী পাখির কলরব টিকিয়ে রাখতে গোয়াইনঘাটের হাওর ও বনাঞ্চলে পাখি শিকার রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।