অপু দাস,রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১ কেজি ৬৭৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সিপিএসসি, এসআরবি-৫, রাজশাহীর একটি আভিযানিক দল।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) ভোরে উপজেলার আমতলা এলাকার চর আষাড়িয়াদহের একটি ফসলি জমি থেকে এসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগের ভেতরে চারটি এয়ারটাইট পলিব্যাগে রাখা হেরোইনসদৃশ গুঁড়ো পদার্থ পাওয়া যায়।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক কারবার, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে সংস্থাটির আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোদাগাড়ী উপজেলার আমতলা এলাকার চর আষাড়িয়াদহে মাদকদ্রব্য থাকার তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-৫, রাজশাহীর সিপিএসসির একটি দল। ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ ভোর ৪টার দিকে ওই এলাকার একটি ফসলি জমিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাদকদ্রব্য রাখা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন আভিযানিক দলের সদস্যরা।
তল্লাশির একপর্যায়ে জমির ওপর পড়ে থাকা একটি প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ তাঁদের নজরে আসে। পরে ব্যাগটি পরীক্ষা করে এর ভেতরে চারটি এয়ারটাইট পলিব্যাগ পাওয়া যায়। পলিব্যাগগুলো খুলে হালকা বাদামি রঙের গুঁড়ো পদার্থ দেখতে পান তাঁরা, যা হেরোইনসদৃশ মাদকদ্রব্য বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়।
পরবর্তী সময়ে উপস্থিত নিরপেক্ষ সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী উদ্ধার করা পদার্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। এতে মোট ১ হাজার ৬৭৭ গ্রাম, অর্থাৎ ১ কেজি ৬৭৭ গ্রাম হেরোইনসদৃশ পদার্থ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার, কাউকে আটক করার তথ্য নেই
অভিযান চলাকালে মাদকদ্রব্যগুলো কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি; বরং ফসলি জমিতে পড়ে থাকা একটি ব্যাগের ভেতর থেকে সেগুলো পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। ফলে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আইনগত তদন্তের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এসআরবি সূত্রে আরও জানা গেছে, উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। থানায় আলামত হস্তান্তরের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত
মাদকদ্রব্যের অবৈধ বিস্তার ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণে মাদক পাচার ও অবৈধ কারবার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্যের অবৈধ সরবরাহ ও বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
গোদাগাড়ীর আমতলা এলাকায় বিপুল পরিমাণ হেরোইনসদৃশ পদার্থ উদ্ধারের ঘটনাটিও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া এসব মাদকদ্রব্যের উৎস, এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং কীভাবে তা সেখানে পৌঁছেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
উদ্ধার করা ১ কেজি ৬৭৭ গ্রাম হেরোইনসদৃশ পদার্থ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।