বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ৪ নং খানপুর ইউনিয়নে বইতে থাকা করতোয়া ও বাঙ্গালি নদীর স্রোতের মতোই জোরালো হয়ে উঠেছে নির্বাচনী আলোচনা। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ইতোমধ্যে চোখে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন শেরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুদ্দৌলা মামুন। ১৯৮৪ সালে খানপুর ইউনিয়নের শৈল্ল্যাপাড়া গ্রামে এক মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা আলহাজ্জ মোঃ মতিয়ার রহমান দুইবারের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এবং মাতা হাজী আফরুজা বেগম একজন গৃহিণী।
আশরাফুদ্দৌলা মামুনের ছাত্রজীবন শুরু শেরপুর ডিজে হাই স্কুলে। ২০০০ সালে ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। এরপর ধাপে ধাপে ২০১১ সালে পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, ২০১২ সালে শেরপুর উপজেলা যুবদলের সেক্রেটারি, ২০১৭ সালে বগুড়া জেলা যুবদলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০২২ সালে শেরপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার নামে মোট ৭টি মামলা রয়েছে এবং ৩ বার কারাবরণ করেছেন বলে জানা যায়। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর তিনি গ্রেপ্তার হয়ে জেলা হাজতে ছিলেন। ২০১৮ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কুসুম্বি ইউনিয়নের গোসাই বাজার এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে অবস্থানকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২০২২ সালেও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৬ আগস্ট ২০২২ তারিখে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সীমাবাড়ি ইউনিয়নে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করে ফেরার পথে বেতখোর বাজার এলাকায় মোটরসাইকেলে অতর্কিত হামলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই হামলা চালায়।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় বলে স্থানীয়রা জানান। ২০১৯ সালে কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে খানপুর ইউপির শৈল্ল্যাপাড়া মাদ্রাসায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। নিয়মিতভাবে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এলাকার যুবকদের খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করা তার কর্মকাণ্ডের অংশ।
এছাড়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও চিকিৎসায় গোপনে সহায়তা করতে তিনি আগ্রহী বলে ঘনিষ্ঠরা জানান। বিগত সময়ে মামলা ও হয়রানির শিকার যুবদলের নেতাকর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পরিবারকেও সহায়তা করেছেন বলে জানা গেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খানপুর ইউনিয়নে রাজনৈতিক সমীকরণ কীভাবে বদলায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।