মোঃ কাইয়ুম হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনার নির্মম বলি হয়েছে শিবা রানী (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী। আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ওমরাডাঙ্গী সড়কের কুয়েত মসজিদ ও স্থানীয় জামায়াত কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
একমাত্র কন্যাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে তার পরিবার। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত শিবা রানী স্থানীয় বাসিন্দা গোবিলাল ও সুমি রানী দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও কোচিং শেষ করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল শিবা। ওমরাডাঙ্গী সড়কের নির্ধারিত স্থানে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির শ্যালোইঞ্জিন চালিত অবৈধ ট্রলি (স্থানীয় ভাষায় সেলোমেশিন চালিত ট্রাক) তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় সে ছিটকে রাস্তার পাশে আছড়ে পড়ে এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিকট শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। কিন্তু মাথায় মারাত্মক আঘাত লাগায় ঘটনাস্থলেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। চোখের সামনে এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।"
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। সন্তান হারানোর এই আকস্মিক শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা। নিহত শিবার বাড়িতে এখন শুধুই আহাজারি। পাড়া-প্রতিবেশী ও সহপাঠীদের কান্না আর বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ। পুলিশ জানায়, বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘাতক যান ও চালককে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
এই অকাল মৃত্যুর পর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে লাইসেন্সবিহীন শ্যালোইঞ্জিন চালিত যানের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে সতর্কীকরণ চিহ্ন স্থাপন এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এমন অসংখ্য তাজা প্রাণ অকালেই ঝরে যাবে।