নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা দেব না। প্রত্যেকটা তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীর হাতকে আমরা মজবুত দক্ষ কারিগরের হাতে পরিণত করব। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দেব, বেকার ভাতা নয়। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেউ কেউ বের হয়েছেন হাতে কার্ড নিয়ে। নাম দিয়েছেন ফ্যামিলি কার্ড। আমাদের সরলমনা কৃষকদের ধোঁকা দিয়ে আরেকটা কার্ডের কথা বলছেন, ফারমার্স কার্ড। এই যারা ফারমার্স কার্ডের কথা বলছেন, তাদের কোনো এক শাসনামলে কৃষকরা ন্যায্য দামে সার চেয়েছিল। সার পায়নি, গুলি পেয়েছিল। জনগণ সবাইকে চেনে। আমাদের এ পোড় খাওয়া জনগণকে কেউ যেন বেকুব এবং বোকা না ভাবেন। তারা যথেষ্ট সচেতন। দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, যারা দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে, রাজার হালতে বসবাস করবেন, আমরা তাদের ঘুম হারাম করে দেব। ওদের শুধু সম্পদ নয়, এই চোরদের দেশেও ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
যে চোরেরা বাংলাদেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, আল্লাহ যেন তৌফিক দেন ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে টাকা নিয়ে আসতে পারি। গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেউ কেউ প্রথমদিকে ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, অনেকে এখন আস্তে আস্তে বলা শুরু করেছেন, আমরাও ‘হ্যাঁ’। ঠেলার নাম বাবাজি। জনগণের ঠেলা একটি ভীষণ শক্তিশালী ঠেলা। এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকেও থামিয়ে দেয়।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল আহসান ইমরুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম, নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলন, আসাদুজ্জামান সোহেল এবং মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শহীদুল্লাহ কায়সার। সভায় ময়মনসিংহ জেলার ১১টি সংসদীয় আসন ও নেত্রকোনা জেলার জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।