নিজস্ব প্রতিবেদক: কচুয়া-বেতাগী সেতু নির্মাণ করা হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন ঝালকাঠি-১ (কাঁঠালিয়া-রাজাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল।তিনি বলেন, এ সেতু নির্মিত হলে পায়রা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। কমবে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব। পাশাপাশি এ অঞ্চলে শিল্পায়ন ও পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাম ভবনে ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, কচুয়া-বেতাগীর মধ্যে সেতু নির্মাণ করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। বর্তমানে পটুয়াখালী ও বরগুনা অঞ্চলের মানুষ খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যেতে বরিশাল-বেকুটিয়া হয়ে ঘুরে যেতে হয়। এতে প্রায় ৭০-৭৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। রূপাতলী এলাকায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়।তিনি বলেন, বেতাগী থেকে কচুয়ার দিকে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা গেলে পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে।
‘একদিকে পায়রা বন্দর, অন্যদিকে মোংলা বন্দর। এই সেতু হলে দুই বন্দরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হবে। তখন এক ঘণ্টার মধ্যে মোংলা এবং প্রায় এক ঘণ্টা থেকে সোয়া ঘণ্টার মধ্যে পায়রা বন্দরে যাওয়া সম্ভব হবে,’ বলেন তিনি।সংসদ সদস্য বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে এ অঞ্চলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়বে। পায়রা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ এলাকায় বিনিয়োগে আগ্রহী হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এখানে বড় একটি বিষয় হলো শিল্পায়ন। অনেক কোম্পানি এদিকে চলে আসতে পারে। কুয়াকাটায় পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেখানে জমির দামও বেড়েছে। আমরা কাঁঠালিয়ার শৌলজালিয়াতেও পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছি। সেখানে একটি ইকোপার্ক করার চেষ্টা চলছে।রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, কচুয়া-বেতাগী সেতুর মাধ্যমে রাজাপুর ও কাঁঠালিয়াকে দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে এ এলাকার গুরুত্ব আরও বাড়বে। এর ফলে অঞ্চলটি পায়রা ও মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। সেতু নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকেও সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্টাডির জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
‘আমি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি লিখেছি। তিনি যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। চিফ ইঞ্জিনিয়ার ইতোমধ্যে স্টাডির জন্য কিছু ফান্ড বরাদ্দ করেছেন। সবকিছুই চলমান রয়েছে।মতবিনিময়কালে সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও ঐক্য আরও জোরদার করার আহ্বান জানান রফিকুল ইসলাম জামাল।
তিনি বলেন, অতীতের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা করলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাবে। ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা কাউকে ছোট করার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে ভুল এড়ানোর জন্য প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস শুধু সফলতার জন্য পড়া হয় না, ব্যর্থতার ইতিহাসও পড়া হয়। আমরা যদি আগের ইতিহাসগুলো জানি, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক ভুল এড়াতে পারব।
দক্ষিণাঞ্চলের সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি নিয়মিত মতবিনিময়ের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ঢাকাস্থ ঝালকাঠি জেলা সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সকালের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার মো. শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের সিনিয়র রিপোর্টার মাহফুজ সাদি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমার বার্তার ফটো সাংবাদিক মোস্তফা কামাল জাহিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও দৈনিক গণকণ্ঠের চিফ রিপোর্টার মোরতুজা আমিন ডিলন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও রাইজিংবিডি ডটকমের আসাদ আল মাহমুদ, নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির, কবিরুজ্জামান মিয়া, নিজামুল হক সুমন ও রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।