মাসুদ রানা মাসুম কক্সবাজার ও পার্বত্য ব্যুরো: উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, জনসভা ও পরিবেশ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে দিনব্যাপী সফর সম্পন্ন বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে দিনব্যাপী সফর শেষ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল থেকে শুরু হওয়া এ সফরে তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি এবং বিশাল জনসভায় অংশগ্রহণ করেন। সফর শেষে বিকেলে তিনি কক্সবাজার ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করেন। সকালেই কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর তিনি সরাসরি নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যান। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দিনের প্রথম ভাগে তিনি কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এর মধ্যে ছিল উপকূলীয় সড়ক উন্নয়ন, বাঁধ সংস্কার, খাল পুনঃখনন এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। স্থানীয়রা মনে করছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এছাড়া চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক এলাকায় জাতীয় পর্যায়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিবেশ রক্ষা ও উপকূলীয় সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এ ধরনের কর্মসূচি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দিনের দ্বিতীয় ভাগে কক্সবাজার শহরে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসভা পরিণত হয় গণজোয়ারে। বক্তব্যে তিনি উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে। জনসভাকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামে।
সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণভাবে সফর সম্পন্ন। পুরো সফরকাল জুড়ে কক্সবাজারে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থা একযোগে দায়িত্ব পালন করে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসভাস্থলে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সফর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উন্নয়ন ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাবের আশা, বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, এই সফর কক্সবাজারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনবে এবং পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।