স্টাফ রিপোর্টার: আব্দুর রহমান মোল্লা, কেরানীগঞ্জ
আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ঢাকার উপকণ্ঠের ঐতিহ্যবাহী জিনজিরা পশুর হাট এখন সরগরম হতে শুরু করেছে। সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে হাটে পশুর আমদানি বাড়ছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
১. পশুর ঢল ও বৈচিত্র্য
হাটের বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বড় বড় ট্রাকে করে গরু আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন রঙের ও জাতের গরু ইতোমধ্যে বাঁশের খুঁটিতে সারিবদ্ধভাবে সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে সাদা-কালো এবং লাল-সাদা ছোপযুক্ত গরুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সুঠাম স্বাস্থ্যের দেশি গরুগুলো হাটের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২. জমজমাট 'হাত' ও দরদাম
হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় 'হাত জমা' বা বেচাকেনার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়েছে। স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা এখন পশুর স্বাস্থ্য ও দাম যাচাই করছেন। ব্যাপারীরাও তাদের পশুগুলোকে যত্নে রাখছেন এবং ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন। যদিও বড় গরুর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো, তবে মাঝারি ও ছোট সাইজের গরুর দিকেই সাধারণ ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি দেখা যাচ্ছে।
৩. হাটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা
হাটের চিত্র দেখে বোঝা যাচ্ছে, রাস্তা কিছুটা কর্দমাক্ত থাকলেও সাধারণ মানুষের উৎসাহে কোনো কমতি নেই। রাস্তার পাশে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী মাচা ও খুঁটি দিয়ে গরু বাঁধার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাক থেকে গরু নামানোর ব্যস্ততা এবং উৎসুক জনতার ভিড় প্রমাণ করে যে, হাটটি দ্রুতই তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পাচ্ছে।
বিক্রেতাদের প্রত্যাশা
হাটে আসা ব্যাপারীদের মতে, আগামী দু-একদিনের মধ্যে পশুর আমদানি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তারা আশা করছেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা সহনশীল থাকলে বেচাকেনা আরও ভালো হবে।
জিনজিরা হাটের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও বিশালতার কারণে প্রতি বছরই এখানে পশুর বিশাল সমাগম ঘটে। বর্তমানে গরু আসতে শুরু করায় এবং ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকায় আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েকদিনেই এই হাটটি ঢাকার অন্যতম সেরা এবং জমজমাট পশুর হাটে পরিণত হবে।