মোঃ নাহিদ চৌধুরী।(কালিয়াকৈর, গাজীপুর)
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা শিল্প, বাণিজ্য ও জনসংখ্যার দিক থেকে দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে বাসিন্দাদের অসন্তোষ বাড়ছে। পৌরসভার ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত ও নাগরিক সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ডেনিম এশিয়া২ নং গেট এর সাইট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য অল্প জায়গা রাখা হয়। যা দিয়ে পানি পাস হতে পারে না।বিগত মাসে এলাকায় পানি হওয়াতে কমিশনার সহ বেশ কিছু কর্মকর্তা আশ্বাস দেয় আপনারা যে ড্রেন এর সমস্যা দেখাইছেন তা ভেঙ্গে বড় করার আশ্বাস দিয়েছে। এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে ও কাজ হয়নি এখনো। যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ও অলিগলিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
অপরিকল্পিত বা অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সেই পানি দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে।৯ নং ওয়ার্ড সফিপুর উত্তর পাড়া যে খাল আছে এখান দিয়ে প্রায়১৫ টি গ্রামের পানি নিষ্কাশন হয়। সফিপুর উত্তরপাড়া কে পৌরসভা স্বীকৃতি দেয় অনেক আগে। পৌরসভার অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই উত্তরপাড়া। এখনো পর্যন্ত নেই কোন ড্রেন ব্যবস্থা। পরিকল্পিত খালের উপর দিয়ে ড্রেনের ব্যবস্থা করা দরকার অতি তাড়াতাড়ি। ডেনিম এশিয়া ২ নং গেট অল্প পানিতে পানি হয়। অন্তত অল্প জায়গা ৫০ টির ওদের দোকানপাট আছে। প্রায় ৪৫ টি দোকানে পানি উঠেছে অনেক মালামালের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি আগের তুলনায় ময়লার বিল বাড়ি এখন ঘর প্রতি ১৫০ টাকা করে নেয়া হয় প্রতি মাসে। যারা ময়লা নেয় তারা জানায় রাজনৈতিক কারণে বিল বেশি নেয়া হয়। এলাকার এ জলাবদ্ধতা কারণে কালভাট সহ শত শত বাড়িঘর পানির নিচে। আশঙ্কা করা যাচ্ছে পানি নামার যে ব্যবস্থা আছে পানি ক্লিয়ার হতে প্রায় সাত দিন সময় লাগবে। এলাকাবাসীর জানিয়েছেন দের ব্যবস্থা ভালো হলে বিগত সময়ের নেয় আমাদের এখানে পানি ওঠার কোন সম্ভাবনাই নেই। আগে পানি হতো দুই এক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যেত। এলাকাবাসী আশাবাদী যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো হয় তাহলে জনদুর্ভোগ আর পড়তে হবে না হাজারো মানুষকে।
এছাড়া অনেক এলাকায় নিয়মিত ময়লা অপসারণ না হওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে যায়। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।রাতের বেলায় অনেক সড়কে পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট না থাকায় পথচারী, নারী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় ছিনতাই, চুরি ও মাদকসংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ সব এলাকায় সমান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও পানি সংকট বা নিম্নচাপের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া খেলার মাঠ, উন্মুক্ত পার্ক ও শিশুদের বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় তরুণ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিভাবকদের মত।পৌর এলাকার বিভিন্ন বাজারে যানজট, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে। ব্যস্ত সময়ে অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি যানবাহন চলাচলেও সমস্যা সৃষ্টি হয় বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।অনেক বাসিন্দার দাবি, নির্মাণকাজে তদারকির অভাব, খোঁড়াখুঁড়ির পর রাস্তা দ্রুত সংস্কার না করা, খাল ও ড্রেন দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত গণশৌচাগারের অভাব এবং বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাও নাগরিক দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেবে। বিশেষ করে সড়ক সংস্কার, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, পর্যাপ্ত স্ট্রিটলাইট, বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা, কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
নাগরিকদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর পৌরসভা শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি একটি আধুনিক, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৌরসভা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।