এস কে সাগর মির্জা, জেলা প্রতিনিধি বগুড়া: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রণবাঘা পশুর হাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই হাটজুড়ে বাড়ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি। শেষ মুহূর্তের কেনাবেচায় হাট এখন যেন প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর এক উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো হাট। বিশেষ করে দেশি জাতের ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই পশু আসা শুরু হয়। শুক্রবার সকাল গড়াতেই হাটে নামে মানুষের ঢল। হাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত গবাদিপশু ঘিরে চলছে দরদাম আর কেনাবেচা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাশাপাশি আশপাশের জেলা থেকেও বিক্রেতারা পশু নিয়ে এসেছেন। অন্যদিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পছন্দের পশু কিনতে ভিড় করেছেন অসংখ্য ক্রেতা। ক্রেতাদের মতে, বড় গরুর তুলনায় মাঝারি আকারের দেশি গরু তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় এসব গরুর চাহিদা বেশি। ফলে এ ধরনের গরুর দামও ছিল বেশ চড়া। তবুও দরদাম শেষে অনেককেই সন্তুষ্ট মনে পশু কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। গরু বিক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, “আমি দুটি গরু হাটে এনেছিলাম। আল্লাহর রহমতে দুটিই ভালো দামে বিক্রি হয়েছে। এবার হাটে ক্রেতার সংখ্যা বেশি, তাই বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
ঢাকা থেকে আসা ব্যাপারী রাজু বলেন, “১৫টি গরু কেনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাজারে দাম বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত ৬টি কিনেছি। এখানকার দেশি গরুর চাহিদা ঢাকায় অনেক বেশি। হাটের ইজারাদার জানান, রণবাঘা পশুর হাট নন্দীগ্রামের অন্যতম বড় ও নিরাপদ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার কারণে প্রতিবছর এখানে ব্যাপক বেচাকেনা হয়। কোরবানির আগে শেষ হাট হওয়ায় এবার পশুর আমদানিও ছিল উল্লেখযোগ্য। এদিকে হাটে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নন্দীগ্রাম থানা ও হাইওয়ে পুলিশের টহল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতা-বিক্রেতারা যেন নির্বিঘ্নে পশু কেনাবেচা করতে পারেন এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।