মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, সাবেক প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি জবায়দুর রহমান পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে সাবেক সভাপতি জবায়দুর রহমান বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন, বর্তমান সভাপতি ফরহাদ হোসেন এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। ১৫/০৮/২০২৬ ইং তারিখে একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখা এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে তা যথাযথভাবে উপস্থাপন না করার অভিযোগও করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আটোয়ারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম সরেজমিনে হাজী সাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী সাবেক সভাপতি জবায়দুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আয়-ব্যয়সহ বিভিন্ন তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ না করার কারণে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এনেছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন ও বর্তমান সভাপতি ফরহাদ হোসেন তাদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তবে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনের তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও আটোয়ারী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও একাডেমিক সুপারভাইজার রেজউন-নবী রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা জানান, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।