ক্রাইম রিপোর্টার আব্দুল হালিম (নিরব) চট্টগ্রাম: প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে কথিত ‘মালা ভাবি’র অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের সিন্ডিকেট দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পূর্বে ফ্রি পোর্ট থেকে শুরু করে কলসি দিঘির পাড় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করলেও, বর্তমানে পতেঙ্গা থানাধীন চরপাড়া মোড় এলাকায় বিস্তৃত হয়েছে তার এই অপরাধ সাম্রাজ্য। তবে এবার কেবল স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগই নয়, অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে এসেছে তার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কল রেকর্ড ও অডিও-ভিডিও প্রমাণ।
কল রেকর্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য: গত ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ অনুসন্ধানী টিমের হাতে আসা একাধিক কল রেকর্ডে মালা ভাবির অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ মেলে। অডিও রেকর্ডে তাকে সরাসরি খদ্দেরের সাথে দরদাম করতে শোনা যায়—যেখানে এক রাতের জন্য নারী সরবরাহ বাবদ ২ হাজার টাকা দাবি করে সে। শুধু দেহ বাবসা নয়, একইসাথে মাদকের কেনাবেচাতেও তার সক্রিয়তা উন্মোচিত হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কথোপকথনে জানা যায়, ১,২৫০ টাকা দিলেই ৫টি ইয়াবা ট্যাবলেটের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় মালা।
পুরোনো সিন্ডিকেট ও নতুন আস্তানা: অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা থেকে চট্টগ্রামে এসে ভাই ঝন্টু মাঝি ও ভাবি বিবির হাত ধরে ফ্রি পোর্ট রেললাইনের পাশে প্রথম অপকর্ম শুরু করে মালা। পরবর্তীতে কলসি দিঘির পাড়ে অনৈতিক কাজ চালাতে গিয়ে ধরা খেলে, বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে এলাকা থেকে সটকে পড়ে সে। বর্তমানে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া মোড়ে বিএনপি অফিসের গলি সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় ৮ থেকে ১০ জন নারী রেখে নিয়মিত মাদকের আসর ও অনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্র।
জনমনে ক্ষোভ ও প্রশাসনের অবস্থান: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে বারবার সংবাদের পাশাপাশি একাধিক অডিও-ভিডিও প্রমাণ প্রকাশিত হলেও পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অলিখিত ছায়াতলে মালা এখনো অধরা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অনৈতিক এই আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অপরাধী মালাসহ তার পুরো সিন্ডিকেটকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
এ বিষয়ে পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পারভেজ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। অসামাজিক ও মাদক সংক্রান্ত এসব অপকর্মের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"