Dhaka ১০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বড় অভিযান: ২ ইটভাটায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

মোঃ শরিফ হোসেন ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: ভোলার দৌলতখান ও লালমোহন উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এক বিশাল যৌথ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আজ ১৬ মে ২০২৬, শনিবার সকাল ১০:০০টা থেকে বিকেল ০৫:০০টা পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে দুই ইটভাটাকে সর্বমোট ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ পাম্প মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।ভোলা জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানটিতে প্রধান কৌশলী এবং প্রসিকিউটর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ তোতা মিয়া । তার নিখুঁত আইনি প্রসিকিউশন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আপসহীন ভূমিকার কারণেই অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে পুরো অভিযান জুড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তোতা মিয়ার এই জোরালো নেতৃত্ব ও সক্রিয় অবস্থান উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কাড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
মোবাইল কোর্টে বিজ্ঞ বিচারক হিসেবে যৌথভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন ভোলা জেলা প্রশাসনের দুই জন দক্ষ সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু রায়হান এবং মোঃ আশরাফুল আলম।অভিযানটি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তা ও কঠোর সহযোগিতা প্রদান করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের চৌকস সদস্যবৃন্দ।
বিজ্ঞ আদালত সূত্রে জানা যায়, “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৫ ধারা লংঘনের দায়ে” উক্ত আইনের ১৫ ধারা মোতাবেক নিম্নে বর্ণিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়:

আরও পড়ুনঃ  সরকারি চলাচলের সড়ক দখল করে অবৈধভাবে বাউন্ডারি ওয়াল ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ

০১. মেসার্স মেঘনা গ্রিন ব্রিকস লিঃ (দৌলতখান):
দৌলতখানের মধ্য জয়নগর ও চালতাতলী এলাকায় অবস্থিত এই ভাটার মালিক মোঃ শাহে আলম (৪১), পিতা- মোঃ রফিকুল ইসলাম-কে ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয় (মামলা নং-১০৪/২৬)। জরিমানার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পাম্প মেশিন দ্বারা ভাটার সমস্ত কাঁচা ইট পানি দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।০২. মেসার্স ইউছুফ ব্রিকস (লালমোহন):লালমোহনের গজারিয়া খালগোড়া এলাকার এই ভাটার মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), পিতা- ওমর হোসেন দেওয়ান-কে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা জরিমানা** করা হয় (মামলা নং- ১০৫/২৬)।
একনজরে মোট জরিমানা: দুটি মামলা ও অভিযান থেকে সর্বমোট ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে: আরএমপি কমিশনার

অভিযান শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ তোতা মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোলা জেলার পরিবেশ ও ফসলি জমি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। যারা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই অনমনীয় অবস্থান ও চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী চক্রকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী ঢোপকল সংরক্ষণে রাসিক প্রশাসকের উদ্যোগ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভোলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বড় অভিযান: ২ ইটভাটায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটের সময়: ০৭:২১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

মোঃ শরিফ হোসেন ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: ভোলার দৌলতখান ও লালমোহন উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এক বিশাল যৌথ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আজ ১৬ মে ২০২৬, শনিবার সকাল ১০:০০টা থেকে বিকেল ০৫:০০টা পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে দুই ইটভাটাকে সর্বমোট ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ পাম্প মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে।ভোলা জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানটিতে প্রধান কৌশলী এবং প্রসিকিউটর হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী ভূমিকা পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ তোতা মিয়া । তার নিখুঁত আইনি প্রসিকিউশন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় আপসহীন ভূমিকার কারণেই অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে পুরো অভিযান জুড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে তোতা মিয়ার এই জোরালো নেতৃত্ব ও সক্রিয় অবস্থান উপস্থিত সকলের দৃষ্টি কাড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
মোবাইল কোর্টে বিজ্ঞ বিচারক হিসেবে যৌথভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন ভোলা জেলা প্রশাসনের দুই জন দক্ষ সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু রায়হান এবং মোঃ আশরাফুল আলম।অভিযানটি সফল করতে মাঠ পর্যায়ে সার্বিক নিরাপত্তা ও কঠোর সহযোগিতা প্রদান করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের চৌকস সদস্যবৃন্দ।
বিজ্ঞ আদালত সূত্রে জানা যায়, “ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ৫ ধারা লংঘনের দায়ে” উক্ত আইনের ১৫ ধারা মোতাবেক নিম্নে বর্ণিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়:

আরও পড়ুনঃ  ১৯ মে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’

০১. মেসার্স মেঘনা গ্রিন ব্রিকস লিঃ (দৌলতখান):
দৌলতখানের মধ্য জয়নগর ও চালতাতলী এলাকায় অবস্থিত এই ভাটার মালিক মোঃ শাহে আলম (৪১), পিতা- মোঃ রফিকুল ইসলাম-কে ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয় (মামলা নং-১০৪/২৬)। জরিমানার পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের পাম্প মেশিন দ্বারা ভাটার সমস্ত কাঁচা ইট পানি দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।০২. মেসার্স ইউছুফ ব্রিকস (লালমোহন):লালমোহনের গজারিয়া খালগোড়া এলাকার এই ভাটার মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), পিতা- ওমর হোসেন দেওয়ান-কে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা জরিমানা** করা হয় (মামলা নং- ১০৫/২৬)।
একনজরে মোট জরিমানা: দুটি মামলা ও অভিযান থেকে সর্বমোট ৪,৫০,০০০/- (চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  দুই মাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও জনসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে: আরএমপি কমিশনার

অভিযান শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ তোতা মিয়া সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভোলা জেলার পরিবেশ ও ফসলি জমি রক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। যারা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই অনমনীয় অবস্থান ও চিরুনি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রভাবশালী চক্রকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  খাউলিয়ার ব্রিজ এখন মরণফাঁদ