Dhaka ০৭:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা “জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬” উপলক্ষে নেত্রকোণায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে স্বর্ণবার বেনাপোল দিয়ে ভারতে পাচারের সময় কাস্টম থেকে আটক ১ পাসপোর্টধারী জুলাই থেকে গণঅভ্যুত্থান বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ইতিহাসের মোড় মান্দায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা চিলমারীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ পালিত মান্দায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জামায়াতের গণমিছিল ও সমাবেশ চট্টগ্রামে ঐতিহাসিক ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন আটোয়ারীতে সন্ধ্যা নামলেও নামেনি জাতীয় পতাকা, ২৬ নং গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবহেলা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শাজাহানপুরে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে সড়ক থেকে শুরু করে বাসা বাড়ি সবখানে প্রভাব

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি – সবখানে প্রভাব পড়েছে এই সংকটের। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পর্যন্ত পাল্টে যাচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি মাইল ছাড়িয়ে গেছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। পাম্পে আটকে থাকার কারণে সড়কে কমে গেছে যানবাহনের সংখ্যা। এতে করে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছিল মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  লামা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উদ্‌যাপিত: সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত ভাবে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। চাপও কম। রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাসের জন্য নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাইলের পর মাইল জুড়ে যানবাহনের লাইন পড়েছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস।

নগরীর চান্দগাঁও থেকে সিএনজি টেম্পুতে উঠে আন্দরকিল্লা আসছিলেন কর্মজীবী মো. দবীর হুসেইন। এই দূরত্বটুকু তিনি টেম্পোতে ১৩ টাকা ভাড়ায় আসা যাওয়া করেন। কিন্তু আজ তাকে দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। গাড়িতে উঠার সময় চালক ২০ টাকা ভাড়ার কথা বলেই যাত্রী উঠিয়েছেন। চলতে চলতে দবীর হুসেইন চালকের কাছ থেকে জানতে পারেন গ্যাস ভোগান্তির কথা।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের শ্রদ্ধাঞ্জলি

চালক রহিম মিয়া তাকে বলেন, ভাই গতকাল রাত ৯টায় পাম্পে লাইন দিছি। রাতের ৪টা বাজে পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে বের হইছি। যারা সকালে লাইন দিছে তারা গ্যাস নিয়ে বের হতে সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যাবে। চান্দগাঁও পাম্পে গ্যাস নিতে পুরাতন চান্দগাঁও থেকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা পর্যন্ত লাইন পড়ে গেছে। আসার সময় দেখছেন তো। এ হল অবস্থা। গাড়ি কয়ঘণ্টা চালাতে পারছি। ভাড়া বেশি না নিয়ে কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলন স্মরণ ফ্যাসিস্ট হাসিনা ৩ শতাধিক শ্রমিককে হত্যা করেছে : মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

হালিশহর,আগ্রাবাদ,চান্দগাঁও, চকবাজার,বাকলিয়া,জামালখানসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ইসমত আরা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। কিন্তু গতকাল থেকে সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। রাত ১১ টার পর গ্যাস আসে। কিন্তু তাও প্রেসার একেবারে নেই। রান্নাবান্না, বাচ্চার নাশতা তৈরিসহ কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। হোটেল থেকে নানরুটি, পাউরুটি কিনে খেতে হচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মাগুরায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে সড়ক থেকে শুরু করে বাসা বাড়ি সবখানে প্রভাব

আপডেটের সময়: ০২:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি – সবখানে প্রভাব পড়েছে এই সংকটের। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পর্যন্ত পাল্টে যাচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি মাইল ছাড়িয়ে গেছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। পাম্পে আটকে থাকার কারণে সড়কে কমে গেছে যানবাহনের সংখ্যা। এতে করে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছিল মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  দেবিদ্বারে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালনে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত ভাবে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। চাপও কম। রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাসের জন্য নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাইলের পর মাইল জুড়ে যানবাহনের লাইন পড়েছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস।

নগরীর চান্দগাঁও থেকে সিএনজি টেম্পুতে উঠে আন্দরকিল্লা আসছিলেন কর্মজীবী মো. দবীর হুসেইন। এই দূরত্বটুকু তিনি টেম্পোতে ১৩ টাকা ভাড়ায় আসা যাওয়া করেন। কিন্তু আজ তাকে দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। গাড়িতে উঠার সময় চালক ২০ টাকা ভাড়ার কথা বলেই যাত্রী উঠিয়েছেন। চলতে চলতে দবীর হুসেইন চালকের কাছ থেকে জানতে পারেন গ্যাস ভোগান্তির কথা।

আরও পড়ুনঃ  হাওর সংস্কৃতির স্মারক নাওমহাল

চালক রহিম মিয়া তাকে বলেন, ভাই গতকাল রাত ৯টায় পাম্পে লাইন দিছি। রাতের ৪টা বাজে পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে বের হইছি। যারা সকালে লাইন দিছে তারা গ্যাস নিয়ে বের হতে সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যাবে। চান্দগাঁও পাম্পে গ্যাস নিতে পুরাতন চান্দগাঁও থেকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা পর্যন্ত লাইন পড়ে গেছে। আসার সময় দেখছেন তো। এ হল অবস্থা। গাড়ি কয়ঘণ্টা চালাতে পারছি। ভাড়া বেশি না নিয়ে কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ  অর্জিত গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ: তথ্যমন্ত্রী

হালিশহর,আগ্রাবাদ,চান্দগাঁও, চকবাজার,বাকলিয়া,জামালখানসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ইসমত আরা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। কিন্তু গতকাল থেকে সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। রাত ১১ টার পর গ্যাস আসে। কিন্তু তাও প্রেসার একেবারে নেই। রান্নাবান্না, বাচ্চার নাশতা তৈরিসহ কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। হোটেল থেকে নানরুটি, পাউরুটি কিনে খেতে হচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়