
স্টাফ রিপোর্টার, আবদুর রহমান মোল্লা
ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুর ইউনিয়নে শতাধিক গ্রাহকের প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে ‘ভোরের আলো সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয় ও প্রসেসিং ফি বাবদ এই টাকা হাতিয়ে নিয়ে অফিস বন্ধ করে পালিয়েছেন সমিতির লোকজন।
ঘটনার বিবরণ
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে রোহিতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে মিষ্টি ভাষায় কথা বলে লোন পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় এই সমিতি। কারো কাছ থেকে ১০ হাজার, কারো কাছ থেকে ৩০ হাজার, আবার কারো কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় বা প্রসেসিং ফি নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দিনে লোন দেওয়ার কথা থাকলেও গ্রাহকরা এসে দেখেন সমিতির অফিস তালাবদ্ধ এবং লোকজন পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীদের আকুতি ও অভিযোগ
মারজান আক্তার: কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি জানান, “আমার বাবার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন ছিল। ‘ভোরের আলো’ সমিতি ৬ লাখ টাকা লোন দেবে বলে আমাদের কাছ থেকে সঞ্চয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা নেয়। আজকে লোন পাশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল গিয়ে দেখি অফিস তালা মারা। বাবার অপারেশন তো দূরের কথা, ওষুধ কেনার জমানো টাকাটাও তারা নিয়ে গেল।
মরিয়ম: তিনি বলেন, “আমার ছেলের বিদেশ যাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা দরকার ছিল। লোন দেওয়ার কথা বলে তারা গত কয়েক সপ্তাহে সঞ্চয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। আজ লোন দেওয়ার কথা থাকলেও গতকাল এসে দেখি অফিস খালি করে পালিয়ে গেছে। এখন আমি কীভাবে এই টাকা শোধ করব বুঝতে পারছি না।
সোলেমান: এই ভুক্তভোগী জানান, “আমাদের বাড়িতে প্রায় ৮টি ঘর, সবার থেকেই লোন দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছে। প্রতারণা করে সরল মানুষগুলোর সর্বস্ব কেড়ে নিয়েছে তারা।
প্রশাসনের ভূমিকা ও আন্দোলন
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও পুলিশ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়নি, এমনকি ১ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আমানতের টাকা ফেরত পাওয়া এবং প্রতারক সমিতির কর্মকর্তাদের শাস্তির দাবিতে গত সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান ভুক্তভোগীরা
প্রতিবেদকের নাম 



















