Dhaka ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
মির্জাপুরে তুচ্ছ ঘটনায় ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু বই ছাপিয়ে তুলছেন হোল্ডিং টেক্স,ব্যাংক হিসাবে জমা না হলেও হচ্ছে তিলক পকেটে নগরীর কোরবানি পশুর হাট পরিদর্শন করেন পুলিশ কমিশনার শওকত আলী ১২৭তম নজরুল জয়ন্তীতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ​ভোলায় কোস্ট গার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র যৌথ অভিযান যাত্রীসহ অবৈধ ট্রলার জব্দ, আটক ১ কাউনিয়ায় বেইলী ব্রিজের কাছে হানিফ পরিবহনের বাস দুর্ঘটনা পাহাড়ে শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষার্থীরা, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি কুড়িগ্রামে সেতু ধস প্রাণ গেল একজনের বিচ্ছিন্ন তিন ইউনিয়নের যোগাযোগ নন্দীগ্রামে ঈদ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা বিতরণ জৈন্তাপুর সীমান্তে মানবপাচার নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৪

কুড়িগ্রামে কোরবানির পশুর সুস্থতা নিশ্চিতে প্রতিটি হাটে মেডিক্যাল টিম

মোঃ আলমগীর হোসাইন, কুড়িগ্রাম,জেলা প্রতিনিধি
সোমবার (২৫ মে ২০২৬ ইং) পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে কোরবানির পশু পালন ও বিক্রির প্রস্তুতি। জেলার খামারিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু-ছাগল পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণে। এবছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি গবাদিপশু। অতিরিক্ত গরম ও বিভিন্ন রোগবালাই থেকে পশুকে সুরক্ষা দিতে জেলার প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদকে ঘিরে জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহামা জাতের গরু প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারিরা পশুর খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস, ভুট্টা, খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড় ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি পশুর সুস্থতার জন্য নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করছে। খামারিদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জেলার ছোট-বড় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার ঈদ উপলক্ষে জেলায় ১৫টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং খামারিদের পরামর্শ দিতে এসব টিম কাজ করছে।
যাত্রাপুর পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আজিজার মোল্লা বলেন, ইতোমধ্যে হাটে বেচাকেনা জমে উঠেছে। ক্রেতারা পশু দেখে দরদাম করছেন। অনেকেই সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনছেন। হাটে ভেটেরিনারি টিম থাকায় খামারিরাও স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঘোগাদহ এলাকার খামারি মাইদুল ইসলাম বলেন, সন্তানের মতো যত্ন করে গরু পালন করেছি। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি। শুধু প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই গরু বড় করেছি। পশুর কোনো সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে জেলার প্রতিটি হাটে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সচেতন করা হচ্ছে এবং পশুর যেকোনো রোগবালাইয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ভিডিও ভাইরাল, আটক ২
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

মির্জাপুরে তুচ্ছ ঘটনায় ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে বড় ভাইয়ের মৃত্যু

কুড়িগ্রামে কোরবানির পশুর সুস্থতা নিশ্চিতে প্রতিটি হাটে মেডিক্যাল টিম

আপডেটের সময়: ০৫:২১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মোঃ আলমগীর হোসাইন, কুড়িগ্রাম,জেলা প্রতিনিধি
সোমবার (২৫ মে ২০২৬ ইং) পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে কোরবানির পশু পালন ও বিক্রির প্রস্তুতি। জেলার খামারিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু-ছাগল পরিচর্যা ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণে। এবছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৯টি গবাদিপশু। অতিরিক্ত গরম ও বিভিন্ন রোগবালাই থেকে পশুকে সুরক্ষা দিতে জেলার প্রতিটি পশুর হাটে ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদকে ঘিরে জেলার ছোট-বড় খামারগুলোতে দেশীয় গরুর পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান ও ব্রাহামা জাতের গরু প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারিরা পশুর খাদ্য হিসেবে সবুজ ঘাস, ভুট্টা, খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড় ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি পশুর সুস্থতার জন্য নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ক্ষতিকর ওষুধ বা স্টেরয়েড ব্যবহার করে পশু মোটাতাজাকরণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করছে। খামারিদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছর কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে জেলার ছোট-বড় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার ঈদ উপলক্ষে জেলায় ১৫টি স্থায়ী ও ১৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ ভেটেরিনারি মেডিক্যাল টিম। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু শনাক্তকরণ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং খামারিদের পরামর্শ দিতে এসব টিম কাজ করছে।
যাত্রাপুর পশুর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা খামারি আজিজার মোল্লা বলেন, ইতোমধ্যে হাটে বেচাকেনা জমে উঠেছে। ক্রেতারা পশু দেখে দরদাম করছেন। অনেকেই সরাসরি খামার থেকেই পশু কিনছেন। হাটে ভেটেরিনারি টিম থাকায় খামারিরাও স্বস্তি পাচ্ছেন।
ঘোগাদহ এলাকার খামারি মাইদুল ইসলাম বলেন, সন্তানের মতো যত্ন করে গরু পালন করেছি। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করিনি। শুধু প্রাকৃতিক খাবার দিয়েই গরু বড় করেছি। পশুর কোনো সমস্যা হলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, কোরবানির পশু সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে জেলার প্রতিটি হাটে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি খামারিদের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সচেতন করা হচ্ছে এবং পশুর যেকোনো রোগবালাইয়ে দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারী সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতায় ঈদ বোনাস তুলতে পারছেনা অনেকেই