
স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা
ঢাকা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা পানির টাংকি সংলগ্ন ‘তিন গল্লি’ এলাকায় আজ ২৫ মে, ২০২৬ (সোমবার) সামান্য বৃষ্টিতেই তৈরি হয়েছে এক কৃত্রিম বন্যা। বর্ষা মৌসুম পুরোদমে শুরু হতে না হতেই এই এলাকার বাসিন্দাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। একটু বৃষ্টি হলেই প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের অলিগলিগুলো তলিয়ে যাচ্ছে কর্দমাক্ত ও নোংরা পানিতে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম ত্রুটি এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক পথ না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এখানে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলজট, যা দেখতে পুরো বর্ষাকালের মতো মনে হয়।
ভোগান্তির চিত্র ও অবরুদ্ধ জনজীবন
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পর আমবাগিচা তিন গল্লি এলাকার রাস্তাগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেনের উপচে পড়া নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি রাস্তার বৃষ্টির পানির সাথে মিশে একাকার হয়ে গেছে। এই নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং চাকরিজীবীদের।
যানবাহন চলাচল বন্ধ: জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা, ভ্যান বা অটোরিকশা এই সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করতে চাচ্ছে না। দু-একটি গাড়ি চললেও মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।
ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস: রাস্তার দুই পাশের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ক্রেতারা পানি মাড়িয়ে আসতে না পারায় কেনাবেচা প্রায় বন্ধ।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: দিনের পর দিন এভাবে নোংরা পানি জমে থাকায় এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সেই সাথে চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ নানা পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। এলাকার এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
”একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের তিন গল্লি এলাকার ঘরের বাইরে বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় জ্যাম হয়ে আছে, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। আমরা কি ট্যাক্স দিয়ে এই নরক যাতনা ভোগ করার জন্য?”
প্রয়োজন দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অনতিবিলম্বে আমবাগিচা তিন গল্লি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করা হোক এবং জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। আসন্ন ভারী বর্ষার আগেই যদি এই সমস্যার সমাধান করা না হয়, তবে এই এলাকার জনজীবন সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান।
প্রতিবেদকের নাম 

























