Dhaka ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ২ আটোয়ারীর বর্ষালুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে দুর্ধর্ষ চুরি আশ্বিনের হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হোসেনপুর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাটোর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনির্দিষ্টকালের ছুটি টঙ্গীতে ছিনতাইকারীর হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত ধুনটে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের বিশেষ মোটরসাইকেল মহড়া কাউনিয়ায় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদারে প্রস্তুতি সভা যার যা আছে তাই নিয়ে মাঠে ঘোষণার পর ৪ গ্রামের সংঘর্ষ চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই বৃহস্পতিবার একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

পাহাড়ের ইউনিয়ন পরিষদে অচলাবস্থা: তৃণমূল উন্নয়নে জরুরি তদারকি তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুর্গম ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা, গ্রামীণ অবকাঠামো, রাস্তা, সেতু-কালভার্ট ও পানি সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জরুরি বিশেষ তদারকির দাবি উঠেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। ওই বছরের আগস্টে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, অনুপস্থিত চেয়ারম্যানের পরিবর্তে প্যানেল চেয়ারম্যানকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি সেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে ৭ উপজেলা ও ৩৪ ইউনিয়ন, রাঙামাটিতে ১০ উপজেলা ও ৫০ ইউনিয়ন এবং খাগড়াছড়িতে ৯ উপজেলা ও ৩৮ ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়ন পাহাড়ি জনপদের স্থানীয় সেবার প্রধান কেন্দ্র হলেও চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি, ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কার্যক্রম কতটা নিয়মিত ও স্বচ্ছ—তা পর্যালোচনা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  চিলমারীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস অনুষ্ঠিত

 

 

২০২৬ সালের জুলাইয়ে বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যকে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের সনদ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার জাতীয় ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই চেয়ারম্যান অনুপস্থিত বা পরিষদ অচল হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও যাচাই করা দরকার।
বিশেষ করে কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ, নির্বাচন, বাস্তবায়ন, ভৌত অগ্রগতি, বিল-ভাউচার ও উপকারভোগীর সংখ্যা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দুর্গম এলাকায় কাগজে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে কম কাজ করা বা নিম্নমানের নির্মাণ সহজে ধরা পড়ে না। তাই ইউনিয়নভিত্তিক প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ, সরেজমিন পরিদর্শন ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই জরুরি। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের দাবি, দুর্গম এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে প্রশাসক বসালে সাধারণ মানুষই বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাঙামাটির চেয়ারম্যানরা সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকর রাখার দাবি জানান। তাই বিষয়টি শুধু চেয়ারম্যান বহাল বা অপসারণে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর পরিষদ, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা—এই তিন দিক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ধলই শাহী দরবার শরীফ হযরত শাহজাহান শাহ (রা:) মাজার শরীফ কমপ্লেক্সের উদ্যোগে পাখপাখালির মেলা অনুষ্ঠিত

 

 

তিন পার্বত্য জেলার ইউনিয়ন পরিষদে বিশেষ তদারকির আওতায় যাচাই করা যেতে পারে—
চেয়ারম্যানের নিয়মিত উপস্থিতি এবং ভারপ্রাপ্ত বা প্যানেল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিচালনার তথ্য; পরিষদ সচিবের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম; গত কয়েক বছরের বরাদ্দ, ব্যয়, বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা; টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও অন্যান্য প্রকল্পের উপকারভোগী; জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য; পরিষদের সভা, সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড। কোনো একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বদলে ইউনিয়নভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অডিট করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী জনপ্রতিনিধিদের কাজ স্বীকৃতি পাবে; অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ ২৮টির বেশি দপ্তর হস্তান্তরিত। ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্বল না করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কঠোর তদারকির আওতায় শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রতিটি ইউনিয়নের গত কয়েক বছরের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সমন্বিত তদন্ত হলে তৃণমূল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহির ঘাটতি স্পষ্ট হবে। প্রশ্ন এখন একটাই—ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে দুর্গম পাহাড়ের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এখনই কি বিশেষ তদারকি ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা শুরু করা হবে? যাতে অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারম্যান মেম্বার ও সচিবদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। (চলবে….)

আরও পড়ুনঃ  শিল্প কারখানায় মিটার চুরি ও চিরকুট লেখে অর্থ আদায় চক্রের ০২ সদস্য গ্রেপ্তার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ২

পাহাড়ের ইউনিয়ন পরিষদে অচলাবস্থা: তৃণমূল উন্নয়নে জরুরি তদারকি তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

আপডেটের সময়: ০২:৩০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো: পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুর্গম ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং উন্নয়ন প্রকল্পে জবাবদিহির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, সামাজিক নিরাপত্তা, গ্রামীণ অবকাঠামো, রাস্তা, সেতু-কালভার্ট ও পানি সরবরাহে ইউনিয়ন পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জরুরি বিশেষ তদারকির দাবি উঠেছে। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। ওই বছরের আগস্টে স্থানীয় সরকার বিভাগ জানায়, অনুপস্থিত চেয়ারম্যানের পরিবর্তে প্যানেল চেয়ারম্যানকে আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সরকারি সেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানে ৭ উপজেলা ও ৩৪ ইউনিয়ন, রাঙামাটিতে ১০ উপজেলা ও ৫০ ইউনিয়ন এবং খাগড়াছড়িতে ৯ উপজেলা ও ৩৮ ইউনিয়ন রয়েছে। এসব ইউনিয়ন পাহাড়ি জনপদের স্থানীয় সেবার প্রধান কেন্দ্র হলেও চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি, ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব ও জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে কার্যক্রম কতটা নিয়মিত ও স্বচ্ছ—তা পর্যালোচনা জরুরি।

আরও পড়ুনঃ  মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কোনাবাড়ী মেট্রো থানার ওসি ইফতেখার আহমেদের কঠোর অবস্থান

 

 

২০২৬ সালের জুলাইয়ে বান্দরবানের আলীকদম সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ তিন সদস্যকে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে ভুয়া নাগরিক সনদ ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের সনদ ও প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার জাতীয় ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া চেয়ারম্যান-মেম্বারদের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ সচিবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই চেয়ারম্যান অনুপস্থিত বা পরিষদ অচল হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমও যাচাই করা দরকার।
বিশেষ করে কাবিখা, কাবিটা, টিআরসহ বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দ, নির্বাচন, বাস্তবায়ন, ভৌত অগ্রগতি, বিল-ভাউচার ও উপকারভোগীর সংখ্যা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। দুর্গম এলাকায় কাগজে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে কম কাজ করা বা নিম্নমানের নির্মাণ সহজে ধরা পড়ে না। তাই ইউনিয়নভিত্তিক প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ, সরেজমিন পরিদর্শন ও ব্যয়ের হিসাব যাচাই জরুরি। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের দাবি, দুর্গম এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সরিয়ে প্রশাসক বসালে সাধারণ মানুষই বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাঙামাটির চেয়ারম্যানরা সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকর রাখার দাবি জানান। তাই বিষয়টি শুধু চেয়ারম্যান বহাল বা অপসারণে সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর পরিষদ, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা—এই তিন দিক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ধলই শাহী দরবার শরীফ হযরত শাহজাহান শাহ (রা:) মাজার শরীফ কমপ্লেক্সের উদ্যোগে পাখপাখালির মেলা অনুষ্ঠিত

 

 

তিন পার্বত্য জেলার ইউনিয়ন পরিষদে বিশেষ তদারকির আওতায় যাচাই করা যেতে পারে—
চেয়ারম্যানের নিয়মিত উপস্থিতি এবং ভারপ্রাপ্ত বা প্যানেল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিচালনার তথ্য; পরিষদ সচিবের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম; গত কয়েক বছরের বরাদ্দ, ব্যয়, বিল-ভাউচার ও প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা; টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও অন্যান্য প্রকল্পের উপকারভোগী; জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য; পরিষদের সভা, সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণী এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনের রেকর্ড। কোনো একক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বদলে ইউনিয়নভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অডিট করলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী জনপ্রতিনিধিদের কাজ স্বীকৃতি পাবে; অনিয়ম, দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ ২৮টির বেশি দপ্তর হস্তান্তরিত। ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্বল না করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কঠোর তদারকির আওতায় শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রতিটি ইউনিয়নের গত কয়েক বছরের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে সমন্বিত তদন্ত হলে তৃণমূল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র এবং সরকারি সেবায় জবাবদিহির ঘাটতি স্পষ্ট হবে। প্রশ্ন এখন একটাই—ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা না করে দুর্গম পাহাড়ের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এখনই কি বিশেষ তদারকি ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা শুরু করা হবে? যাতে অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারম্যান মেম্বার ও সচিবদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। (চলবে….)

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে ভূমি অফিস ও ইউপি কার্যালয়ে চুরি, খোয়া গেল দুই কম্পিউটার