Dhaka ০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গুলশানের ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজে’ অবৈধ বার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ আগে কুপিয়ে জখম-এবার গুলি করে হত্যা সাংবাদিকদের শত্রু কারা? বান্দরবানের তিন্দু সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সিলেটে সড়ক দূর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় বাসচালক গ্রেপ্তার রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী পূজার দীর্ঘ ছুটিতে  ঢাকার ফুট পথ চলাচলের যোগ্যের সাহসী পদক্ষেপ বৃদ্ধা মাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে আটক কুমিল্লা সীমান্ত থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ কেরানীগঞ্জে বেড়েই চলেছে অগ্নিদুর্ঘটনা: মুহুরী পট্টি রোডে একটুর জন্য রক্ষা, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মিলল নিস্তার দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে: ডিএমপি কমিশনার

আকমল আলী ঘাটে ইলিশ পাচারে বাধা দেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জিম্মির চেষ্টা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮৪ সময় দেখুন

আব্দুল হালিম নিরব, ক্রাইম রিপোর্টার চট্টগ্রাম: অভিযোগে নাম উঠেছে বিতর্কিত ‘ভুয়া সাংবাদিক’ এস এম মিজান উল্লাহ সমল কান্তির; প্রশাসনের জড়িত থাকার গুঞ্জন

চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ডিমওয়ালা মা ইলিশ পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও জিম্মির শিকার হয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। ইলিশ পাচার চক্রের মূলহোতা রহমান মাঝির লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডার বাহিনী এবং স্থানীয় দুই বিতর্কিত কথিত সাংবাদিকের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জাতীয় দৈনিক অভয়নগর-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ তারেক হোসাইন ১৪ ই অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আজ প্রকাশিত বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর  ২০২৬

আরও পড়ুনঃ  আবাসন সংকটে বরিশালের চার সরকারি কলেজের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় আকমল আলী ঘাট এলাকায় বস্তায় ভরে মা ইলিশ পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৮-১০ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহের সময় রহমান মাঝির নির্দেশে তার অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন ক্যাডার সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীরা চিৎকার করে বলতে থাকে— “প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করা আছে।”

বিতর্কিত সাংবাদিকদের উসকানি ও জিম্মি করার চেষ্টা:

সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের বিতর্কিত কথিত সাংবাদিক মিজান সমল কান্তি। তারা সাংবাদিকদের সহায়তা না করে উল্টো রহমান মাঝির সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আঁতাত করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের খেপিয়ে তুলে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে বেঁধে রাখার চেষ্টা ও জিম্মি করে রাখে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই অবৈধ পাচার সিন্ডিকেটের পেছনে স্থানীয় প্রশাসন ও উক্ত কথিত সাংবাদিকদের যোগসাজশ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভেদরগঞ্জে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা, ২ হাজার ২৬৬ জেলের মাঝে ২৫ কেজি চাল বিতরণ করে

মিজান সমল কান্তির বিতর্কিত অতীত:

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মিজান ও সমল কান্তি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে সাংবাদিকতার আড়ালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে কখনো ভ্রাম্যমাণ আদালতের ‘ম্যাজিস্ট্রেট’, আবার কখনো ‘সিনিয়র সাংবাদিক’ ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনায় তার ইতিপূর্বেও স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছিল। পুনরায় ইলিশ পাচারকারীদের মদদ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় তার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিক সমাজ।

আরও পড়ুনঃ  অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে আধুনিক ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিবাদ:

এ বিষয়ে দৈনিক অভয়নগরের বিভাগীয় ব্যুরো চীফ তারেক হোসাইন জানান, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি। ইলিশ পাচারকারী ও কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব তথ্যপ্রমাণসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত রহমান মাঝি, তার ক্যাডার বাহিনী এবং উসকানিদাতা বিতর্কিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গুলশানের ‘সেভেনটি এইট রেস্টহাউজে’ অবৈধ বার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ

আকমল আলী ঘাটে ইলিশ পাচারে বাধা দেওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, জিম্মির চেষ্টা

আপডেটের সময়: ১২:২২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আব্দুল হালিম নিরব, ক্রাইম রিপোর্টার চট্টগ্রাম: অভিযোগে নাম উঠেছে বিতর্কিত ‘ভুয়া সাংবাদিক’ এস এম মিজান উল্লাহ সমল কান্তির; প্রশাসনের জড়িত থাকার গুঞ্জন

চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ডিমওয়ালা মা ইলিশ পাচারের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও জিম্মির শিকার হয়েছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। ইলিশ পাচার চক্রের মূলহোতা রহমান মাঝির লেলিয়ে দেওয়া ক্যাডার বাহিনী এবং স্থানীয় দুই বিতর্কিত কথিত সাংবাদিকের উসকানিতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জাতীয় দৈনিক অভয়নগর-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যুরো চীফ তারেক হোসাইন ১৪ ই অক্টোবর ২০২৬ ইংরেজি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আজ প্রকাশিত বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর  ২০২৬

আরও পড়ুনঃ  সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার: ভিসার আবেদনকারীদের দালাল থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় আকমল আলী ঘাট এলাকায় বস্তায় ভরে মা ইলিশ পাচার করা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৮-১০ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহের সময় রহমান মাঝির নির্দেশে তার অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জন ক্যাডার সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। এ সময় হামলাকারীরা চিৎকার করে বলতে থাকে— “প্রশাসন, কোস্ট গার্ড ও সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করা আছে।”

বিতর্কিত সাংবাদিকদের উসকানি ও জিম্মি করার চেষ্টা:

সংবাদ সংগ্রহের একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন চট্টগ্রামের বিতর্কিত কথিত সাংবাদিক মিজান সমল কান্তি। তারা সাংবাদিকদের সহায়তা না করে উল্টো রহমান মাঝির সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে আঁতাত করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের খেপিয়ে তুলে ‘মব’ সৃষ্টি করেন। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের একটি স্থানে অবরুদ্ধ করে বেঁধে রাখার চেষ্টা ও জিম্মি করে রাখে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই অবৈধ পাচার সিন্ডিকেটের পেছনে স্থানীয় প্রশাসন ও উক্ত কথিত সাংবাদিকদের যোগসাজশ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  উলিপুরে ১২৫ টি পূজা মন্ডপের চালের ডিও বিতরণ

মিজান সমল কান্তির বিতর্কিত অতীত:

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মিজান ও সমল কান্তি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে সাংবাদিকতার আড়ালে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে কখনো ভ্রাম্যমাণ আদালতের ‘ম্যাজিস্ট্রেট’, আবার কখনো ‘সিনিয়র সাংবাদিক’ ভুয়া পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি করার অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনায় তার ইতিপূর্বেও স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে হাতেনাতে আটক হয়েছিল। পুনরায় ইলিশ পাচারকারীদের মদদ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলায় তার নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামের কর্মরত সাংবাদিক সমাজ।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলের সার্বিক উন্নয়নে  ডিসি আবু সাঈদের সাথে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আইনি পদক্ষেপ ও প্রতিবাদ:

এ বিষয়ে দৈনিক অভয়নগরের বিভাগীয় ব্যুরো চীফ তারেক হোসাইন জানান, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছি। ইলিশ পাচারকারী ও কথিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব তথ্যপ্রমাণসহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত রহমান মাঝি, তার ক্যাডার বাহিনী এবং উসকানিদাতা বিতর্কিত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।