
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: জন্মভূমির মাটি, শৈশবের স্মৃতি আর মায়ের স্মৃতিচারণ—সব মিলিয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে। নিজের শেকড়ের টানে পৈতৃক এলাকায় ফিরে স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ। রাজনীতি ও ক্ষমতার চেয়ে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা এবং শিকড়ের টান যে অনেক গভীর, তা তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জাতীয় স্বার্থে ঐক্য এবং দেশপ্রেমের রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় নিজের পৈতৃক বাড়িসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় স্বজন ও এলাকাবাসীর আয়োজনে এক সৌজন্য ও স্মৃতিচারণমূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, রাজনীতি কিংবা ক্ষমতার চেয়ে শিকড় ও মাতৃভূমির আত্মিক টান অনেক বেশি মূল্যবান। স্মৃতি ও রক্তের টান অর্থ-সম্পদ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। গণতন্ত্রে মতের ভিন্নতা ও মতবিরোধ থাকবেই, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু দিন শেষে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এই দেশ, দেশের ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্ব আমাদের সবার। বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন সবার আগে বাংলাদেশ।দেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না। নিজের জন্মস্থানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, তাঁর মা এই মাটিতেই শুয়ে আছেন। কর্মব্যস্ত জীবনে নানা ব্যস্ততা থাকলেও জন্মভূমির টান তাঁকে বারবার এখানে ফিরিয়ে আনে। পৈতৃক বাড়ির উঠান, বৈঠকখানা, পুকুরপাড় এবং তৎকালীন ‘শান্তির হাট’ ঘিরে থাকা শৈশবের স্মৃতিগুলো আজও তাঁর হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে রয়েছে। কমলনগরের ঐতিহ্যবাহী ভুলুয়া নদীতে শৈশবে মাছ ধরার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। নদীটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পলি জমে নদীটি শুকিয়ে গেছে।এতে আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।
ভুলুয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও আঞ্চলিক জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের পক্ষ থেকে নদীটি পুনঃখননের বিষয়ে পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। অচিরেই ভুলুয়া নদী পুনঃখনন ও সংস্কার প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিগত দিনের রাজনৈতিক নির্যাতন ও দুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে নানা অন্যায় ও কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছেন। এখন পারস্পরিক ঐক্য বজায় রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করার সময় এসেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলেকজান্ডার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন মিঠু, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক এম দিদার হোসেন। সভা শেষে হাজিরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আগত রোগীদের সুবিধার্থে পানির ফিল্টার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ হস্তান্তর করেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
এ সময় কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান, কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম, রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইকতারুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর জেলা পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, রামগতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন, রামগতি পৌর বিএনপির সভাপতি সাহেদ আলী পটু, কমলনগর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন সাজু, শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নাহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 


















