Dhaka ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ব্রহ্মপুত্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, ৪৪ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার মিরপুরে নতুন রূপকথা অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের রুমা পর্যটক গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি বেলাল, সম্পাদক ফেড্রিক কাউনিয়ায় আকর্ষিক ঘুর্ণিঝড়ে বাড়ি ঘর লন্ডভন্ড তাহিরপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে গৃহবধূ নিখোঁজ তিন ঘন্টা পর উদ্ধার লামায় মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তা প্রশস্তকরণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম চকরিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ; আটক ৬ টাঙ্গাইলের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল পত্নীতলার যুবকের রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সিএমপিতে ‘সাইবার সাপোর্ট অ্যান্ড রেসপন্স সেন্টার’ এর যাত্রা শুরু

লামায় মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তা প্রশস্তকরণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের চম্পাতলী এলাকায় মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডি-র উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সারোয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের যোগসাজশে প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তোয়াক্কা না করে চরম নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় নাগরিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বর্ষাকালে কোটি টাকার এই টেকসই কাঠামোটি ধসে পড়ে নব-প্রশস্ত সড়ক, মাতামুহুরী ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ও জনপদ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিলেকশন বালুর বালাই নেই, চলছে ময়লা ও কাদা-বালি: সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী তীরবর্তী বা ঢালু অঞ্চলের সুরক্ষামূলক এই গাইড ওয়ালে কংক্রিটের শক্তি বাড়াতে নির্দিষ্ট এফ.এম-এর (Fineness Modulus) মোটা ‘সিলেকশন বালু’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাইটে কোনো সিলেকশন বালুই আনা হয়নি। তার পরিবর্তে স্থানীয় নদী থেকে তোলা চিকন, ময়লা ও কাদা যুক্ত ভিটি বালি দিয়ে অবাধে ঢালাইয়ের কাজ চালানো হচ্ছে, যা প্রকৌশল বিদ্যা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটের কালাইয়ে স্কুল কমিটির নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, আহত ৮

পাহাড়ি লোকাল পাথর ও ভাইব্রেটর ছাড়া ঢালাই:
শুধু বালি নয়, ঢালাইয়ের প্রধান উপাদান পাথরের ক্ষেত্রেও চলছে নয়ছয়। সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের পাহাড়ি লোকাল পাথর। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, কংক্রিটকে সঠিকভাবে জমাট বাঁধানোর জন্য ‘ভাইব্রেটর মেশিন’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হলেও তা একেবারেই করা হচ্ছে না। শ্রমিকরা ম্যানুয়ালি লাঠি ও কোদাল দিয়ে ঢালাই সমান করছে। এর ফলে কংক্রিটের ভেতরে ফাঁকা জায়গা বা ‘হানি কম্ব’ (Honeycombing) তৈরি হচ্ছে। ওপর থেকে ঢালাই দেখতে ভালো মনে হলেও এটি ভেতরে অত্যন্ত ভঙ্গুর ও দুর্বল থেকে যাচ্ছে, যা পানির সামান্য চাপেই ধসে পড়বে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার, সেই এলজিইডি-র এসও সারোয়ার সাইটে উপস্থিত থেকে তদারকি করার কথা থাকলেও তিনি ঠিকাদারের সাথে গোপন আঁতাত করেছেন। মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি এই চোখধাঁধানো জালিয়াতিকে বৈধতা দিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে কর্ণপাত করছেন না। ভাঙন কবলিত চম্পাতলী এলাকার এই গাইড ওয়াল ও নব-প্রশস্ত রাস্তাটি যদি আগামী বর্ষায় ধসে যায়, তবে মাতামুহুরী ব্রিজের স্থায়িত্ব যেমন সংকটে পড়বে, তেমনি সরকারের কোটি কোটি টাকা সরাসরি পানিতে ভেসে যাবে। এই প্রকাশ্য লুটপাট ও টেকনিক্যাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এলজিইডি-র জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ব্রহ্মপুত্রে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, ৪৪ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

লামায় মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তা প্রশস্তকরণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণে চরম অনিয়ম

আপডেটের সময়: ০৬:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের চম্পাতলী এলাকায় মাতামুহুরী ব্রিজ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডি-র উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) সারোয়ার এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের যোগসাজশে প্রাক্কলন (এস্টিমেট) তোয়াক্কা না করে চরম নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় নাগরিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এতে বর্ষাকালে কোটি টাকার এই টেকসই কাঠামোটি ধসে পড়ে নব-প্রশস্ত সড়ক, মাতামুহুরী ব্রিজের অ্যাপ্রোচ ও জনপদ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সিলেকশন বালুর বালাই নেই, চলছে ময়লা ও কাদা-বালি: সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদী তীরবর্তী বা ঢালু অঞ্চলের সুরক্ষামূলক এই গাইড ওয়ালে কংক্রিটের শক্তি বাড়াতে নির্দিষ্ট এফ.এম-এর (Fineness Modulus) মোটা ‘সিলেকশন বালু’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে সাইটে কোনো সিলেকশন বালুই আনা হয়নি। তার পরিবর্তে স্থানীয় নদী থেকে তোলা চিকন, ময়লা ও কাদা যুক্ত ভিটি বালি দিয়ে অবাধে ঢালাইয়ের কাজ চালানো হচ্ছে, যা প্রকৌশল বিদ্যা অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  মন্ত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সাধারণ মানুষের শঙ্কা কোন পথে যাচ্ছে পাহাড়?

পাহাড়ি লোকাল পাথর ও ভাইব্রেটর ছাড়া ঢালাই:
শুধু বালি নয়, ঢালাইয়ের প্রধান উপাদান পাথরের ক্ষেত্রেও চলছে নয়ছয়। সিডিউল অনুযায়ী উন্নতমানের পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের পাহাড়ি লোকাল পাথর। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, কংক্রিটকে সঠিকভাবে জমাট বাঁধানোর জন্য ‘ভাইব্রেটর মেশিন’ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হলেও তা একেবারেই করা হচ্ছে না। শ্রমিকরা ম্যানুয়ালি লাঠি ও কোদাল দিয়ে ঢালাই সমান করছে। এর ফলে কংক্রিটের ভেতরে ফাঁকা জায়গা বা ‘হানি কম্ব’ (Honeycombing) তৈরি হচ্ছে। ওপর থেকে ঢালাই দেখতে ভালো মনে হলেও এটি ভেতরে অত্যন্ত ভঙ্গুর ও দুর্বল থেকে যাচ্ছে, যা পানির সামান্য চাপেই ধসে পড়বে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যার, সেই এলজিইডি-র এসও সারোয়ার সাইটে উপস্থিত থেকে তদারকি করার কথা থাকলেও তিনি ঠিকাদারের সাথে গোপন আঁতাত করেছেন। মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি এই চোখধাঁধানো জালিয়াতিকে বৈধতা দিচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে কর্ণপাত করছেন না। ভাঙন কবলিত চম্পাতলী এলাকার এই গাইড ওয়াল ও নব-প্রশস্ত রাস্তাটি যদি আগামী বর্ষায় ধসে যায়, তবে মাতামুহুরী ব্রিজের স্থায়িত্ব যেমন সংকটে পড়বে, তেমনি সরকারের কোটি কোটি টাকা সরাসরি পানিতে ভেসে যাবে। এই প্রকাশ্য লুটপাট ও টেকনিক্যাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এলজিইডি-র জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই'২৪ গণঅভ্যুত্থান ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন মাঠে গড়াল কাবাডি ও ভলিবল