মাসুদ রানা মাসুম, কক্সবাজার ঘুরে বান্দরবান: কক্সবাজার ও বান্দরবানবাসীর ক্ষোভ তুঙ্গে (রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে স্থবিরতা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ—অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে গত ১৮ মাসে বেড়েছে জনঅসন্তোষ ও নিন্দার ঝড়) রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিলেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ডঃ মো ইউনুস । তবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে প্রায় ১৮ মাস পার করলেও বাস্তবতা বলছে—প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান ক্রমেই আকাশ আর পাতাল। সরকার গঠনের শুরুতেই রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমারের সাথে কার্যকর কোনো চুক্তি বা দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। বরং বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতির কারণে নতুন করে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যা ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকা কক্সবাজার ও বান্দরবান অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে বান্দরবানের সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, রুমা ও থানচি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা, জীবিকা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বনভূমি উজাড়, শ্রমবাজারে অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। এদিকে কক্সবাজার জেলার শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাও ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতা জনমনে হতাশা তৈরি করেছে। একসময় অনেকেই মনে করেছিলেন—Tarique Rahman-এর বিকল্প হিসেবে নতুন নেতৃত্ব দেশকে স্থিতিশীলতার পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশা অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সরকারের বিভিন্ন খাতে দুর্বলতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারের কিছু উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সিদ্ধান্তহীনতা ও অদক্ষতার কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও অপচয় ঘটেছে। এতে দেশের অর্থনীতি যেমন চাপের মুখে পড়েছে, তেমনি সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে।
তাই সয়ং বাংদেশের গণমাধ্যমগুলোতেও এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। টেলিভিশন টকশো, জাতীয় পত্রিকা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নীতিনির্ধারণী ব্যর্থতা, কূটনৈতিক অগ্রগতির অভাব এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার এবং এক সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা সহ প্রায় প্রতিটি উপদেষ্টা ফ্যাসিস আওয়ামী লীগের আমলে বিশেষভাবে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছিলেন। তাই ফ্যাসিসদের মতই সুবিধাবাদী মিথ্যে প্রতিশ্রুতির ফুলজুরি রসগোল্লা বাংলার জনগণ কে খাইয়েছেন অন্তবর্তীকালীর সরকারের উপদেষ্টারা। যা গভীরভাবে বাংলাদেশের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বিষয়গুলো বারবার উঠে আসছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ জনগণ প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন—রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে কেবল আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে—
👉 রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল ছিল?
👉 অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে বাস্তব অর্জন কোথায়?
👉 এই সংকটের দায়ভার কে নেবে?
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায় আমরা শান্তি চেয়েছিলাম, কিন্তু এখন প্রতিদিন নতুন দুশ্চিন্তা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের একটি জটিল ইস্যু। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে এই সংকট কেবল মানবিক নয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেও আরও গভীর হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। অথচ আমরা এরই মধ্যে উপলব্ধি করতে পারছি কিছুটা। (বিশেষ দ্রষ্টব্য : রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ২০১৮ সালে 'রোহিঙ্গা এলিয়েন, শিরোনামে একটি নিউজ পোর্টাল ওয়েবসাইটে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলাম। এতে রোহিঙ্গা সংকট ও সমাধান জন্য বাংলাদেশের সরকারের প্রতি যে প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছিলো। তা আবার পুনরায় দৈনিক আজকের জনবানী পত্রিকায় পর্বগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে অতি শীঘ্রই। )