নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি এককভাবে বিজয়ী হয়েছে। বাকি তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন জয়ী হয়েছে। এরপরও যদি পুরো অঞ্চলকে বর্তমান সরকারের ছায়াসঙ্গীদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে বাজেটে বরিশালের জন্য কোনো বরাদ্দ থাকবে না এবং ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণের ঘোষণাও আসবে না। এটি বরিশালের মানুষের জন্য পীড়াদায়ক ও মানসিক কষ্টের বিষয়। আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। আলাল বলেন, জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। মানুষ বড় প্রত্যাশা নিয়ে ভোট দিয়েছে। অতীতে বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন ও বিভাগ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো স্মরণ রেখেই তারা আশা করছে, বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত সরকার বরিশালের প্রতি ন্যায্য দৃষ্টি দেবে। তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলের উন্নয়ন হোক, সেটিই তারা চান। তবে বরিশালের ন্যায্য দাবি ও প্রাপ্য পাশ কাটিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
আলাল বলেন, তারা সরকারের অংশ না হলেও সংসদে বরিশালের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। স্পিকার, চিফ হুইপ, বরিশালের কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন। তাই বরিশালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করা উচিত। তিনি বলেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে। পাশাপাশি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক চিকিৎসক, সহকারী, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগের দাবি জানান। আলাল আরও বলেন, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে বরিশাল মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা উচিত। একই সঙ্গে নদীভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের দুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাই ওই এলাকাকে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের ভাঙনের প্রসঙ্গ তুলে আলাল বলেন, সৈকতের অনেক অংশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের ঐতিহ্যও নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জাতীয় সংসদে বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।