জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তাপ এখন রাজধানী ঢাকা ছাড়িয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। বিশ্বকাপের মাহেন্দ্রক্ষণে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। এই ‘বিগ ম্যাচ’কে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। যেন এক টুকরো মিনি স্টেডিয়ামে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৭টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠ এবং টিএসসিতে। প্রিয় দলের সমর্থনে জার্সি গায়ে, মাথায় পতাকা বেঁধে হাজারো ফুটবলপ্রেমী হাজির হয়েছেন সেখানে। বড় পর্দায় প্রিয় দলের খেলা দেখার জন্য তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ম্যাচ শুরুর সাথে সাথে পুরো এলাকা যেন এক আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিটি আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি কিংবা গোলবার লক্ষ্য করে নেওয়া শট—সবকিছুতেই চিৎকার আর উল্লাসে কেঁপে উঠছে ঢাবির আকাশ-বাতাস। বিপক্ষ দলের আক্রমণের সময় সমর্থকদের মধ্যে যেমন টানটান উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে, তেমনি নিজের দলের গোলে আনন্দের জোয়ারে ভেসেছেন সবাই।
ফুটবলপ্রেমী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্বকাপের আমেজটাই অন্যরকম। ক্লাসে বা পরীক্ষার চাপে থাকলেও বিশ্বকাপের সময় আমরা সবকিছু ভুলে যাই। সকালে বন্ধুদের সাথে একসাথে বসে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাই আলাদা। আর্জেন্টিনার খেলা দেখার জন্য সকাল সকালই এখানে চলে এসেছি।’
আরেক সমর্থক বলেন, ‘টিএসসিতে বা মুহসীন হল মাঠে খেলা দেখার পরিবেশটাই অন্যরকম। শত শত মানুষের সাথে একসাথে চিৎকার করে খেলা উপভোগ করাটা এক দারুণ অভিজ্ঞতা।’
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিশেষ নজরদারিও লক্ষ্য করা গেছে। হার-জিতের ঊর্ধ্বে উঠে ফুটবলকে কেন্দ্র করে মানুষের এই একাত্মতা ও আনন্দ আয়োজন প্রমাণ করছে, বাংলাদেশে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বরং একটি উৎসব।