মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য ব্যুরো,: বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলে কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নিয়ে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে। দুই জেলাতেই বর্তমান নেতৃত্ব এবং নবঘোষিত কমিটিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ও ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে রাজপথে নেমেছে সংগঠনের একাংশ। গতকাল পৃথক কর্মসূচিতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে পাহাড়ের এই দুই জনপদে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে বান্দরবান জেলা শহরে ‘সর্বাত্মক নেতৃবৃন্দ’-এর ব্যানারে গতকাল দুপুরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, বর্তমান জেলা আহ্বায়ক তৃণমূলের মতামত তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দল পরিচালনা করছেন।
বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান এবং স্লোগান দেন— "পকেট নেতৃত্ব মানি না, মানব না"। সমাবেশ থেকে বর্তমান আহ্বায়ককে জেলা ছাত্রদলে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে দ্রুত কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয়। রাঙ্গামাটিতে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ ও ‘আইফোন’ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। এদিকে রাঙ্গামাটিতে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ আট বছর পর ঘোষিত ২৩ সদস্যের আংশিক কমিটিকে ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে গতকাল টানা ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন পদবঞ্চিতরা। শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করায় পর্যটন নগরীর যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।বিক্ষুব্ধ নেতাদের দাবি, যোগ্যদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে এবং ‘আইফোন’ উপহারের মাধ্যমে অছাত্র ও মামলার আসামিদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে। নবঘোষিত কমিটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও মাদকের সংশ্লিষ্টতার গুরুতর অভিযোগ তুলে তারা কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। দুই জেলার বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদেরই অভিন্ন দাবি—ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করে ‘সুবিধাবাদী’দের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে ছাত্রদলকে ধ্বংস করার জন্য এই ষড়যন্ত্রমূলক কমিটি দেওয়া হয়েছে।
অবিলম্বে এসব পকেট কমিটি বাতিল না করলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।" বিক্ষোভের জেরে দুই জেলাতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও থমথমে ভাব কাটেনি। অন্যদিকে বান্দরবানেও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে ছাত্রদলের এই বিভক্তি আগামী দিনের আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই কোন্দল আরও সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।