পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক নিদর্শন গুলোর মধ্যে দিবরের দীঘি অন্যতম।ইতিহাস, ঐতিহ্য প্রকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয় এই দিঘী যুগ যুগ ধরে স্থানীয় মানুষের গর্বের প্রতীক। দিঘির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক দিব্যক স্তম্ভ উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য বহন করে। ইতিহাসের আলোকে দিববরের দিঘী: ইতিহাসবিদদের মতে, একাদশ শতাব্দীতে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নেতা দিব্যক (দিব্য)...এর স্মৃতি সঙ্গে দিবরের দিঘির সম্পর্ক রয়েছে। ধারণা করা হয়, দিব্যকের বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে দিঘির মাঝখানে পাথরের এই স্তম্ভ করা হয়। স্তম্ভটির উচ্চতা প্রায় ৩১ ফুট এবং এটি একটি বিশাল এক খন্ড কালো পাথরে নির্মিত। বাংলাদেশের প্রাচীন নিদর্শন গুলোর মধ্যে এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দীর্ঘ সময় ধরে দিবরের দিঘী শুধু পানির উৎসই নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লোককথার ধারক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাস প্রেমিক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা এই স্থাপনা দেখতে আসেন। বর্তমান অবস্থা বর্তমানে দিবরের দীঘি বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত একটু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল। দিঘির চারপাশে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ হলেও পর্যটকের জন্য আধুনিক সুযোগ সুবিধা এখনো সীমিত।
বসার স্থান, প্রর্যাপ্ত বিশ্রামাগার, তথ্য কেন্দ্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিছন্নতার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করেন দর্শনার্থীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রর্যাপ্ত প্রচারের অভাবে দেশের অনেক মানুষ এখনো দিবরের দিঘির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানে না। পর্যটন সম্ভাবনা : প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বিশাল জলরাশি এবং ঐতিহাসিক স্তম্ভ... সব মিলিয়ে বিবরের দিঘী উত্তর অঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে এখানে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে দেশি বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়তে পারে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। সংরক্ষণের করণীয়: বিশেষজ্ঞদের মতে, দিবরের দিঘীর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুন্ন রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটক বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং ঐতিহাসভিত্তিক তথ্য ফলক স্থাপন জরুরী। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারি উদ্যোগ আরো জোরদার করা প্রয়োজন। সবশেষে দিবরের দীঘি শুধু একটি দিঘী নয়, এটি বাংলাদেশের মধ্যযুগীয় ইতিহাস, বরেন্দ্র অঞ্চলের গৌরব এবং জাতীয় ঐতিহ্য এক উজ্জ্বল প্রতীক। যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক স্থানটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র পরিণত হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আছে আমাদের ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ ভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।