স্টাফ রিপোর্টার, আব্দুর রহমান মোল্লা, ঢাকা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার অন্তর্গত ঝিলমিল আবাসিক এলাকা থেকে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি এখন এক ভয়াবহ উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ব্যস্ততম এই সড়কের একাংশ দখল করে ফেলেছে পচনশীল বর্জ্যের বিশাল স্তূপ। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং পাসপোর্ট অফিসের সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দুর্গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে ওঠায় এলাকাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয়রা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।
জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ বিপর্যয়
বুধবার (১০ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার ধারের পুরো এলাকাটি বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে পূর্ণ। পচনশীল বর্জ্য থেকে নির্গত উৎকট গন্ধে পথচারীদের নাক চেপে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করায় আবর্জনার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানিতে এই বর্জ্য মিশে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি করছে, যা থেকে মশা-মাছির উপদ্রব ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে এবং নানাবিধ সংক্রামক রোগের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
দায়িত্বহীনতায় বারবার দূষণ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তাটি পরিষ্কার করার জন্য মাঝে মাঝে লোক দেখানো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার কোনো স্থায়িত্ব নেই। কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাবে ময়লা পরিষ্কার করার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কিছু অসাধু ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী সেখানে পুনরায় বর্জ্য ফেলা শুরু করে। এটি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে এই ময়লা ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি
ঝিলমিল আবাসিক এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভুক্তভোগীরা অনতিবিলম্বে এই জায়গাটি পুরোপুরি পরিষ্কার করে সেখানে স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, পুনরায় ময়লা ফেলা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পৌর প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।