Dhaka ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাঁশখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জব্দ ৬৮ ড্রেজার পাইপ ধুনটে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ​ জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৯৭ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটকের পর কারাগারে প্রেরণ আটোয়ারীতে যুব দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। জামালপুরের সরিষাবাড়িতেও সারাদেশের ন্যায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন লক্ষ্মীপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ট্রাফিক আইন মানার তাগিদ সাঘাটায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মজুত, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বগুড়ায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল কুচিয়ামোড়া টহল পুলিশের অভিযানে কুচিয়ামোড়া থেকে সাংবাদিকের মোটরসাইকেল উদ্ধার: চোর গ্রেপ্তারে থানা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ ​ চিলমারীতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন।

মেঘের গর্জন আর ঢলের আতঙ্কে কৃষক

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কবার্তার পর সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কেটে ফেলা হচ্ছে আধাপাকা ধান। আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর উজানের পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় সিলেটের হাওড় পাড়ের কৃষকদের চোখে এখন ঘুম নেই। দিগন্তজোড়া মাঠ সোনালি ধানে ভরে থাকলেও মনে নেই স্বস্তি। আবহাওয়া অধিদফতর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কবার্তার পর স্বপ্নের ফসল তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে তড়িঘড়ি করে আধাপাকা ধানই কেটে ঘরে তুলছেন হাজারো কৃষক। দিনরাত একাকার করে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ধান কাটার মহোৎসব। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবং সময়মতো ফসল তুলতে পারলে প্রান্তিক কৃষকদের সারা বছরের আহার নিশ্চিত হবে। আপাতত মেঘের ডাক আর পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে লড়াই করেই চলছে সিলেটের সোনালি ধান কাটার এই অসম যুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎

 

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলার হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৩৭ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমির অর্ধেকের বেশি ধান ইতিমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান নিরাপদভাবে ঘরে তোলা সম্ভব হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলায় এবার ৮৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে যার বড় অংশই জেলার বিভিন্ন হাওড়াঞ্চলে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেকোনো সময় ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল। এই আশঙ্কায় পাকা ধানের পূর্ণতা পাওয়ার অপেক্ষা না করেই কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা দেওয়ায় কিষান-কিষানি ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

আরও পড়ুনঃ  গাইবান্ধায় গিদারী ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৬

গোয়াইনঘাট উপজেলার তুরুং গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে ধান কাটতে ব্যস্ত। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, আবার কেউ সেই ধান বাড়িতে নিয়ে মাড়াই করছেন। অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও আধাপাকা ধান অন্তত ঘরে তুলতে পারার মধ্যে এক ধরনের অসহায় স্বস্তি খুঁজছেন তারা। তুরুং গ্রামের কৃষক আবদুল হামিদ বলেন, মেঘ ডাকলেই কলিজা কাঁপে। গত কয়েক বছরের বন্যায় আমাদের সব শেষ করে দিয়েছিল। এবার ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি পাকার সময়টুকুও পাচ্ছি না। ঢল আসার আগেই আধাপাকা ধান কেটে ফেলছি। যদি পানি বেড়ে যায় তবে তো খড়ও পাব না। তাই দিনরাত এক করে মাঠেই পড়ে আছি। একই গ্রামের পারভেজ আহমেদ বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে হাওড় ডুবতে সময় লাগে না। আধাপাকা ধান কাটলে চাল একটু শক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু একদম না পাওয়ার চেয়ে এটাই ভালো। বাড়ির নারী সদস্যরাও মাড়াই আর শুকানোর কাজে সাহায্য করছে। এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য- বন্যা আসার আগেই যেন ফসলটা নিরাপদে গোলায় তুলতে পারি।

আরও পড়ুনঃ  ১৭ বছরে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল : আইজিপি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাঁশখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযান, জব্দ ৬৮ ড্রেজার পাইপ

মেঘের গর্জন আর ঢলের আতঙ্কে কৃষক

আপডেটের সময়: ০৬:১৬:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সিলেট প্রতিনিধিঃ সিলেটে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কবার্তার পর সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কেটে ফেলা হচ্ছে আধাপাকা ধান। আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর উজানের পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় সিলেটের হাওড় পাড়ের কৃষকদের চোখে এখন ঘুম নেই। দিগন্তজোড়া মাঠ সোনালি ধানে ভরে থাকলেও মনে নেই স্বস্তি। আবহাওয়া অধিদফতর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের সতর্কবার্তার পর স্বপ্নের ফসল তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে তড়িঘড়ি করে আধাপাকা ধানই কেটে ঘরে তুলছেন হাজারো কৃষক। দিনরাত একাকার করে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ধান কাটার মহোৎসব। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে এবং সময়মতো ফসল তুলতে পারলে প্রান্তিক কৃষকদের সারা বছরের আহার নিশ্চিত হবে। আপাতত মেঘের ডাক আর পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে লড়াই করেই চলছে সিলেটের সোনালি ধান কাটার এই অসম যুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ  এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা

 

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, জেলার হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৩৭ হাজার ৬২৬ হেক্টর জমির অর্ধেকের বেশি ধান ইতিমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। দ্রুত ধান কাটার জন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অবশিষ্ট ধান নিরাপদভাবে ঘরে তোলা সম্ভব হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট জেলায় এবার ৮৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে যার বড় অংশই জেলার বিভিন্ন হাওড়াঞ্চলে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, যেকোনো সময় ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল। এই আশঙ্কায় পাকা ধানের পূর্ণতা পাওয়ার অপেক্ষা না করেই কাস্তে হাতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগ দ্রুত ধান কাটার নির্দেশনা দেওয়ায় কিষান-কিষানি ও শ্রমিকদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

আরও পড়ুনঃ  জামালপুরের মাদারগঞ্জে ৯৭ পিস ইয়াবাসহ তিনজন আটকের পর কারাগারে প্রেরণ

গোয়াইনঘাট উপজেলার তুরুং গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে ধান কাটতে ব্যস্ত। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, আবার কেউ সেই ধান বাড়িতে নিয়ে মাড়াই করছেন। অনেকের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও আধাপাকা ধান অন্তত ঘরে তুলতে পারার মধ্যে এক ধরনের অসহায় স্বস্তি খুঁজছেন তারা। তুরুং গ্রামের কৃষক আবদুল হামিদ বলেন, মেঘ ডাকলেই কলিজা কাঁপে। গত কয়েক বছরের বন্যায় আমাদের সব শেষ করে দিয়েছিল। এবার ধান ভালো হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি পাকার সময়টুকুও পাচ্ছি না। ঢল আসার আগেই আধাপাকা ধান কেটে ফেলছি। যদি পানি বেড়ে যায় তবে তো খড়ও পাব না। তাই দিনরাত এক করে মাঠেই পড়ে আছি। একই গ্রামের পারভেজ আহমেদ বলেন, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে হাওড় ডুবতে সময় লাগে না। আধাপাকা ধান কাটলে চাল একটু শক্ত হয় ঠিকই, কিন্তু একদম না পাওয়ার চেয়ে এটাই ভালো। বাড়ির নারী সদস্যরাও মাড়াই আর শুকানোর কাজে সাহায্য করছে। এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য- বন্যা আসার আগেই যেন ফসলটা নিরাপদে গোলায় তুলতে পারি।

আরও পড়ুনঃ  ১৭ বছরে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল : আইজিপি