
মোঃ মাসুদ রানা মাসুম,পার্বত্য অঞ্চল ব্যুরোঃ দুর্গাপূজার টানা ছুটিতে পর্যটক বরণে প্রস্তুত বান্দরবান সহ তিন পার্বত্য জেলা। ইতোমধ্যে তিন জেলার ৬০ ভাগ হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউসের বুকিং হয়ে গেছে। শেষ সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন হোটেল-মোটেল ও টুরিস্ট যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। আর পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দদায়ক করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পর্যটন পুলিশের পক্ষ থেকে জোরদার করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রতি বছর দূর্গাপূজার ছুটিতে অসংখ্য পর্যটকের ঢল নামে বান্দরবন সহ তিন পার্বত্য জেলায়। শেষ সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কাজ শেষ করে নতুনভাবে সাজিয়ে পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে পর্যটকবাহী যানবাহন ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দূর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন দিন সরকারি ছুটি এবং শুক্র ও শনিবার মিলে টানা ৫ দিন ছুটি রয়েছে। এছাড়া ১৮ থেকে ২০ অক্টোবর রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫ দিন সহ সপ্তাহের শুরু এবং শেষে ২ দিন শুক্র ও শনিবার থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূজা উপলক্ষে ১০ দিনের টানা ছুটি পাচ্ছে।
দূর্গাপুজার এই টানা ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে বান্দরবান জেলার মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, নীলগিরি, নীল দিগন্ত, বগালেক সহ জেলার সব কয়টি পর্যটনকেন্দ্র। এদিকে এবারেও পূজার দীর্ঘ ছুটিতে প্রচুর পর্যটক বান্দরবানে সমাগম ঘটবে এমন প্রত্যাশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে বুকিং হয়ে গেছে জেলার বেশির ভাগ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট আর গেস্ট হাউস। শেষ সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কাজ শেষ করে নতুনভাবে সাজিয়ে পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। জেলা সদরের হিলটন হোটেলে এর ম্যানেজার এস এম আক্কাস উদ্দিন জানান, আমাদের হোটেলের ৭২টি রুমের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং হয়ে গেছে আর পূজার ছুটি শুরু হলেই আরও পর্যটক এর আগমন ঘটবে আর আমরা ভ্রমণকারীদের সার্বিক সেবা দিতে প্রস্তুত।
বান্দরবানের ক্লাউডি ইন রিসোর্ট এর ম্যানেজার মো. হাসান জানান, পূজার ছুটি উপলক্ষে আমাদের বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়েছে। আমরা পর্যটকদের বরণের অপেক্ষায় রয়েছি। তিনি আরো জানান, বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবার জন্য প্রতিটি হোটেল-রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বেশ সচেতন আর তারা পর্যটকদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রায় ৪ শতাধিক পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ী আর পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে নিয়মিত কাজ করছে প্রশাসন। বান্দরবান জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজ্ নাজনীন সুলতানা ও পুলিশ সুপার মো: ওহাবুল ইসলাম জানান, এবারের পূজায় পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ সহজ করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।ইসলামি বই খুঁজুন বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক মো.জসীম উদ্দিন বলেন, সকল হোটেল মোটেল আর রিসোর্টগুলো আমরা নতুন আঙ্গিকে সাজানো এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সকল মালিককে নির্দেশনা দিয়েছি এবং সেই মোতাবেক পর্যটক বরণের জন্য সবাই সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
তিনি আরো জানান, বেশিরভাগ হোটেল-রিসোটগুলোতে নানা ধরণের সংস্কার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র আর শতাধিক হোটেল-মোটেল রির্সোটের পাশাপাশি জেলায় রয়েছে প্রায় ৪শতাধিক পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ী আর পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে নিয়মিত কাজ করছে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী। হোটেল মোটেলের পাশাপাশি জেলায় পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরানোর জন্য ইতিমধ্যে বুকিং হচ্ছে বিভিন্ন পর্যটকবাহী যানবাহনগুলো। এদিকে পূজার টানা ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে ব্যবসায়ীকভাবে বাড়তি লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছে হোটেল মোটেল ও কটেজ ব্যবসায়ী ও পর্যটকবাহী যানবাহন সমিতির নেতৃবৃন্দরা। বান্দরবান মাইক্রোবাস,জীপ ও পিক আপ মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি নাসিরুল আলম জানান,আমরা আমাদের সকল চাঁদের গাড়ী সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট (ট্যুরিষ্টবাহী যান বাহন) কাজ করে ফিট রেখেছি। আমরা আশা করছি, টানা ছুটিতে দেশি বিদেশি পর্যটক বান্দরবানে আসবে আর আমরা তাদের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমন করাতে সক্ষম হবো। এদিকে টানা ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপদে বান্দরবানে ভ্রমণ করতে পারে সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা।
প্রতিবেদকের নাম 



















