Dhaka ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে’ -শ্রমমন্ত্রী সাংবাদিক হত্যা ও হামলার প্রতিবাদে তাহিরপুরে মানববন্ধন, দোষীদের শাস্তির দাবি দেবিদ্বারে মাদকবিরোধী অভিযানে যুবকের ৩০ দিনের কারাদণ্ড ধামরাইয়ে হিফফুজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান পলাশবাড়ীতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার-৮ পাবনায় নেশার টাকা না দেওয়ায় মাকে জবাই করে হত্যা, ছেলে আটক লালপুরে গ্রাম পুলিশদের সাপ্তাহিক হাজিরা প্যারেড অনুষ্ঠিত দিলীপ চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজা পরিদর্শন কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে উৎসবে মাতোয়ারা ভক্তরা

গ্যাস সংকটে রান্নায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়তি খরচের বোঝা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকায় টানা তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। দিনের বেশিরভাগ সময়ই অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে, চুলায় আগুন জ্বলে মিটমিট করে। ফলে সময়মতো রান্না শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক ঘণ্টার রান্না শেষ করতে লেগে যাচ্ছে দু-তিন ঘণ্টা। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন ওভেন কিংবা রাইস কুকারে রান্না করছেন। আবার অনেকে রান্না করতে না পেরে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে সীমিত আয়ের অনেক মানুষের প্রতিদিনের খরচ বেড়ে গেছে। আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর কিংবা গভীর রাত ছাড়া অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। কোথাও কোথাও চুলা জ্বললেও সেই আগুনে একটি তরকারি রান্না করতেই দু-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। মোহাম্মদপুরের গৃহিণী রাজিয়া আক্তার বলেন, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা তৈরি করতে পারি না। চুলায় আগুন এত কম যে ডিম সেদ্ধ করতেও অনেক সময় লাগে। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যাচ্ছে। মিরপুরের বাসিন্দা রুকাইয়া জানান, কয়েকদিন ধরে দুপুর ও রাতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রায়ই হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। এতে মাসিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ভারতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক সংকটে মোদি

 

ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে তাদের আয়ও কমে গেছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি—সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে একই সমস্যায় ভুগলেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রান্নার জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরএলএনজি (পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। এদিকে, চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আরও পড়ুনঃ  কৃষি খাত লাভজনক করতে সরকারকে প্রণোদনা দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

 

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢামেকে সুস্থ হতে এসে অসুস্থতার ঝুঁকি
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গ্যাস সংকটে রান্নায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়তি খরচের বোঝা

আপডেটের সময়: ০৬:০১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকায় টানা তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। দিনের বেশিরভাগ সময়ই অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে, চুলায় আগুন জ্বলে মিটমিট করে। ফলে সময়মতো রান্না শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এক ঘণ্টার রান্না শেষ করতে লেগে যাচ্ছে দু-তিন ঘণ্টা। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার বৈদ্যুতিক হিটার, ইন্ডাকশন ওভেন কিংবা রাইস কুকারে রান্না করছেন। আবার অনেকে রান্না করতে না পেরে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে সীমিত আয়ের অনেক মানুষের প্রতিদিনের খরচ বেড়ে গেছে। আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, হাজারীবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, বাসাবো, মালিবাগ, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভোর কিংবা গভীর রাত ছাড়া অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ থাকে না বললেই চলে। কোথাও কোথাও চুলা জ্বললেও সেই আগুনে একটি তরকারি রান্না করতেই দু-তিন ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। মোহাম্মদপুরের গৃহিণী রাজিয়া আক্তার বলেন, সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর আগে নাশতা তৈরি করতে পারি না। চুলায় আগুন এত কম যে ডিম সেদ্ধ করতেও অনেক সময় লাগে। বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যাচ্ছে। মিরপুরের বাসিন্দা রুকাইয়া জানান, কয়েকদিন ধরে দুপুর ও রাতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রায়ই হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে। এতে মাসিক খরচ অনেক বেড়ে গেছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে। অনেক স্টেশন সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে: ডা. শফিকুর রহমান

 

ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। এতে তাদের আয়ও কমে গেছে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প ও সিএনজি—সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের স্বল্পচাপ অব্যাহত থাকতে পারে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে একই সমস্যায় ভুগলেও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রান্নার জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় একদিকে যেমন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আরএলএনজি (পুনঃগ্যাসীকৃত এলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে। এদিকে, চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আরও পড়ুনঃ  ঢামেকে সুস্থ হতে এসে অসুস্থতার ঝুঁকি

 

সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে মন্ত্রী জানান, একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এলএনজি খালাস ব্যাহত হয়েছে। এতে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। তবে মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলএনজি কার্গো খালাস সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায়ও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা, নিহত ৫