Dhaka ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাঙ্গুড়ায় শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, মন্দিরে মন্দিরে বর্ণিল আলোকসজ্জা একজন সৎ ও ক্ষুরধার সাংবাদিক গড়ার নেপথ্য কারিগর: আমার আলাউদ্দিন ভাই কাউনিয়ায় গাজীরহাট রোড স্বেচ্ছায় ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত ধামইরহাটে বসতবাড়ি নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রতিপক্ষের হামলায় গুরতর আহত ১ ইয়েমেনে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে হামলা, নিহত ৫ ঘোড়াঘাটে এক দিনে ছয় সড়কের উন্নয়নকাজ উদ্বোধন, হুমকি নয় জনকল্যাণে গুরুত্ব সমাজকল্যাণমন্ত্রী এক লুটেরার হাত থেকে আরেক লুটেরার হাতে ক্ষমতা গেছে: ডা. শফিকুর রহমান লালপুরে শিবনগর সার্বজনীন শিব ও দূর্গা মন্দিরে ১ম শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং নির্মূল করতে না পারলে আপনি থাকবেন না: চিফ হুইপ মান্দায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ

কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন?

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩০ সময় দেখুন

আহমেদ আক্তার রানা, কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ দেখিয়েছেন চলমান মামলার কাগজপত্র, আবার কেউ দেখিয়েছেন ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এদিকে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও করাতকল চলার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখান। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের অধিদপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করে, করাতকল পরিচালনার বিশেষ লাইসেন্স নয়।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে চুরি হওয়া ৪ পানির পাম্প উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে যেতে পারছেন না। ফলে করাতকলগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে তাঁর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ব্রাহ্মণপাড়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবহৃত হচ্ছে রাবিশ ও নিম্নমানের খোয়া

করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি করাতকলের অফিসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে লাইসেন্স ছাড়া সার ও কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

কুলাউড়ায় কতটি করাতকল রয়েছে, কতটির বৈধ লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন আছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে এখন উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাঙ্গুড়ায় শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব, মন্দিরে মন্দিরে বর্ণিল আলোকসজ্জা

কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন?

আপডেটের সময়: ০৩:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

আহমেদ আক্তার রানা, কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে একাধিক করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ দেখিয়েছেন চলমান মামলার কাগজপত্র, আবার কেউ দেখিয়েছেন ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এদিকে আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনেও করাতকল চলার অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের লাইসেন্স দেখান। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের অধিদপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদান করে, করাতকল পরিচালনার বিশেষ লাইসেন্স নয়।

আরও পড়ুনঃ  বান্দরবানের তিন্দু সড়কে পর্যটকবাহী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা চাইলে করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, কুলাউড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে তিনি সরেজমিনে যেতে পারছেন না। ফলে করাতকলগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনে তাঁর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে লাইসেন্স ছাড়া সার ও কীটনাশক বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন কর্মকর্তা বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানের সময় কয়েকটি করাতকলের অফিসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা গেছে। ভাটেরার একটি করাতকলে কাগজপত্র নিয়ে প্রশ্ন করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের অভিযোগ। তবে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আইন মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই মূল বিষয়।

আরও পড়ুনঃ  নাগেশ্বরীতে আধুনিক কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে 'পার্টনার কংগ্রেস'

কুলাউড়ায় কতটি করাতকল রয়েছে, কতটির বৈধ লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন আছে—তা প্রকাশের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে এখন উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।